ভাষার জন্য আত্মত্যাগের পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ ছিল বাঙালি জাতির জন্য অনুপ্রেরণা ও সম্মানজনক।
১৯৪৭ সালে পকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জাতিকে সবদিক দিয়ে শাসন, শোষণ ও বঞ্চিত করতে থাকে। পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা বাংলা হলেও। মাত্র ৩.২৭% উর্দুভাষী শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার পায়তারা শুরু করে। পাকিস্তান সরকার উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা দিলে বাঙালিরা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। বাঙালি জাতির এ সফলতা তাদের পরবর্তী সকল আন্দোলনে প্রেরণা যুগিয়েছে। শোষিত ও বঞ্চিত বাঙালি জাতি বুঝতে পেরেছে আন্দোলন ছাড়া তাদের ন্যায্য অধিকার আদায় করা সম্ভব নয়। তাই তারা যখনই শোষণ বঞ্চনার শিকার হয়েছে তখনই আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। ভাষা আন্দোলনের পর ১৯৫২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং সর্বোপরি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রতিটি আন্দোলনে ভাষা আন্দোলনের প্রেরণা ছিল। এ ভাষা আন্দোলনের সফলতার প্রেরণা থেকেই তারা স্বাধীনতা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর নাগপাশ থেকে মুক্তিলাভ করে।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, ভাষা আন্দোলনই বাঙালি জাতির সকল আন্দোলনের প্রেরণা।