উদ্দীপকের নির্বাচনের সাথে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের সাদৃশ্য রয়েছে।উদ্দীপকের দেখা যায়, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পাঁচ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জামাল চৌধুরী ছিলেন সবচেয়ে প্রভাবশালী। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে অনেক নেতার সাথে তার ঘনিষ্ঠতা আছে। তাই জামাল চৌধুরীকে পরাজিত করার জন্য অন্য চার জন প্রার্থী ঐক্য গড়ে তোলেন এবং বিপুল ভোটে জয়ী হন। উদ্দীপকের জোট গঠন ও নির্বাচনের বিজয় অর্জন পূর্ব বাংলার ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট গঠন এবং নির্বাচনে বিজয় লাভের ঘটনার সাদৃশ্য লক্ষণীয়। ১৯৪৯ সালে পূর্ব বাংলার টাঙ্গাইলে প্রথম উপনির্বাচনে মুসলিম লীগের প্রার্থী জমিদার পন্নী সাহেব তরুণ মুবনেতা শামসুল হকের কাছে পরাজিত হলে শাসকগোষ্ঠী পরাজয়ের আশঙ্কায় ৩৪টি শূন্য আসনে নির্বাচন দিতে ভয় পায়। নানা টানবাহানার পর বাধ্য হয়ে সরকার ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ পূর্ব' বাংলা প্রাদেশিক নির্বাচনের দিন নির্ধারণ করে। এ নির্বাচনে মুসলিম লীগকে মোকাবিলা করার জন্য মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, এ কে ফজলুল হক, 'হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রমুখের প্রচেষ্টায় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো একটি যুক্তফ্রন্ট গঠন করে। ৫টি দল নিয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। যুক্তফ্রন্টের শরীক দলগুলো হলো- ১. আওয়ামী মুন্সলিম লীগ, ২. নেজাম-ই-ইসলাম, ৩. কৃষক-শ্রমিক পার্টি, ৪., খিলাফতে রব্বানি এবং ৫. গণতন্ত্রী দল। এ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং নির্বাচনে ২১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে। এ নির্বাচনে পূর্ব বাংলার মুসলিম আসন সংখ্যা ২৩৭টির মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি, মুসলিম লীগ ১০টি, নির্দলীয় ৩টি ও খেলাফতে রব্বানী ১টি আসন লাভ করে।অতএব উদ্দীপকের ১৯৭১ সালের নির্বাচনের সাথে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের সাদৃশ্য রয়েছে।