ভাষা আন্দোলনের ঘটনাটি উদ্দীপকে বর্ণিত বিহারের ঘটনা থেকে অধিক তাৎপর্যপূর্ণ।বিহার প্রাদেশিক সরকার বিহারের সংখ্যাগরিষ্ঠদের ভাষাকে বাদ দিযে তাদের পছন্দনীয় ভাষা চাপিয়ে দেয়। যার ফলে বিহারের জনগণ বাংলা ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আন্দোলন করলে বিহারের সরকার তাদের ওপর গুলি চালায় এবং ১১জন শহিদ হয়। উদ্দীপকের উক্ত ঘটনাটি যেমন তাৎপর্যপূর্ণ, তেমনি বাঙালি জাতির ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস আরও তাৎপর্যপূর্ণ। মূলত পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই অর্থাৎ ১৯৪৭ সাল থেকেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী পূর্ব বাংলার ওপর উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করে। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য পূর্ব বাংলায় ১৯৪৭ সালে তমদ্দুন মজলিশ এবং ১৯৪৮ সালে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। শুধু তাই নয়, পূর্ব বাংলার জনগণ বিভিন্ন সময় হরতাল, ধর্মঘটও পালন করে। চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষার জন্য ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করলে পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠির নির্দেশে পুলিশ গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই রফিক, জব্বারসহ অনেক ভাষা সৈনিক নিহত হন। এই ঘটনাটি বাঙালির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ভাষার সাথে সম্পৃক্ত। পাকিস্তান সরকার পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মাতৃভাষাকে ধ্বংস করার যে ষড়যন্ত্র করেছিল, পূর্ব বাংলার ভাষা প্রেমিক জনগণ তা নস্যাৎ করে দেয়। ফলে বাংলা ভাষা রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পায়। আর একই সূত্র ধরে পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। এজন্য উদ্দীপকের বিহারের ঘটনার চেয়ে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঘটনা অধিক তাৎপর্যপূর্ণ।