উদ্দীপকে সেলিমের গল্প থেকে 'মুক্তি জোট' তথা যুক্তফ্রন্ট গঠন ও এর গুরুত্ব জানা যায়। এ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে যুক্তফ্রন্ট মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।উদ্দীপকে দেখা যায়, সেলিম নামের এক তরুণ ছাত্র জানতে পারে-পাকিস্তান সরকারের বৈষম্যমূলক আচরন থেকে বাঁচতে 'মুক্তি জোট' নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠন করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য ছিল পূর্ব বাংলার মানুষের অধিকার এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করা। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে 'মুক্তি জোট' বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে, অনুরূপ ঘটনা ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের ক্ষেত্রে দেখা যায়। ক্ষেত্রে দেখা যায়। কেননা ১৯৫৪ সালে পাকিস্তানে ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী নেতৃত্বে অনুরূপ যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয় এবং তারা জয়লাভকরে। নানা টালবাহানার পর বাধ্য হয়ে সরকার ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক নির্বাচনের দিন নির্ধারণ করে। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন সংশোধন করে ২১ বছর বয়স্ক নাগরিকদের সর্বজনীন প্রত্যক্ষ ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান করা হয়। মুসলিম লীগকে মোকাবিলা করার জন্য মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, এ. কে, ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রমুখের প্রচেষ্টায় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো একটি যুক্তফ্রন্ট গঠন করে। ৫টি দল নিয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। যুক্তফ্রন্টের শরিক দলগুলো হলো ১. আওয়ামী মুসলিম লীগ, ২. নেজাম-ই-ইসলাম, ৩. কৃষক শ্রমিক পার্টি, ৪. খিলাফতে রব্বানি এবং ৫. গণতন্ত্রী দল। নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং নির্বাচনে ২১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে। যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে পূর্ব বাংলার মুসলিম আসন সংখ্যা ২৩৭টির মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি, মুসলিম লীগ ১০টি, নির্দলীয় ৩টি ও খেলাফতে রব্বানী ১টি আসন লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তান শোষকগোষ্ঠী যুক্তফ্রন্টের বিজয়কে মেনে নিতে না পেরে ষড়যন্ত্র শুরু করে এবং মন্ত্রিসভা। ভেঙ্গে দেয়। যা বাঙালির মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে।