উদ্দীপকে উল্লেখিত সুদানের দুই অংশের বৈষম্যের মতো তৎকালীন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বৈষম্যও ছিল পাহাড় সমান।
পাকিস্তান আমলে পূর্ব পাকিস্তান চরম অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয়। ১৯৫৯-৬০ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের অধিবাসীদের মাথাপিছু আয় ছিল পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের তুলনায় ৩২% বেশি। পাকিস্তানের মোট রাজস্ব আয়ের শতকরা ৬০ ভাগই অর্জিত হতো পূর্বাঞ্চল থেকে। অথচ এর মাত্র ২৫ ভাগ ব্যয় হতো এ অঞ্চলে। মোট রপ্তানি আয়ের ৬০ ভাগ পূর্ব বাংলার পণ্য থেকে অর্জিত হলেও এ অঞ্চল আমদানি পণ্যের মাত্র শতকরা ৩০ ভাগ পেত। পাকিস্তানের জনসংখ্যার শতকরা ৬০ ভাগই পূর্ব পাকিস্তানে থাকলেও জাতীয় আয়ের মাত্র ২৭ ভাগ ব্যয় হতো তাদের জন্য ।
পূর্ব পাকিস্তানের হাতে মুদ্রা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের কোনো ক্ষমতাই ছিল না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ প্রায় সকল ব্যাংক, বিমা, বাণিজ্য, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিদেশি মিশনসমূহের সদর দফতর ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে। অনেক শিল্পের কাঁচামাল পূর্ব পাকিস্তানে উৎপন্ন হলেও প্রধান শিল্পকারখানাগুলো প্রতিষ্ঠিত হয় পশ্চিমে। মোট তিনটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় যে সকল উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয় সেখানে পশ্চিম পাকিস্তানের তুলনায় পূর্ব পাকিস্তানে বরাদ্দ ছিল অনেক কম। উদ্দীপকে দেখা যায়, উত্তর সুদান দক্ষিণ সুদানকে অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলে। একইভাবে পশ্চিম পাকিস্তানও পূর্ব পাকিস্তানকে অর্থনৈতিকভাবে শোষণ করে নিজেদের সমৃদ্ধ করে তোলে । পূর্ব পাকিস্তান হয়ে পড়ে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত উত্তর সুদানের নেতারা রাষ্ট্রক্ষমতায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে দক্ষিণ সুদানকে অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত করেছিলেন। একইভাবে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীও পূর্ব পাকিস্তানকে অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত করে উভয়ের মধ্যে ব্যাপক বৈষম্যের সৃষ্টি করে।