উক্ত আন্দোলনে বাঙালি স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল উক্তিটির সাথে আমি একমত
ভাষা আন্দোলন বাংলার জনগণের জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এটি নিছক একটি প্রতিবাদী আন্দোলন ছিল না,পাকিস্তানের রাজনীতিতে এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য ছিল সুদূরপ্রসারী। এ আন্দোলনে পূর্ব বাংলার জনগণের মধ্যে সংঘটিত জাতীয় চেতনা সৃষ্টি করে। এ আন্দোলন পূর্ব বাংলার অধিকার বঞ্চিত মানুষকে অধিকার সচেতন ও মুক্তির আকাঙ্খায় উদ্দীপ্ত করে। পূর্ব বাংলায় স্বাধিকারের চিন্তা চেতনার আত্মপ্রকাশ ঘটে। আর এ চেতনাই পরবর্তীকালে প্রতিটি গণ আন্দোলনের প্রেরণা যোগায় এবং মানুষের রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির পথকে সুগম করে। বাঙালি জাতীয়তাবাদ এর প্রেরণায় উদ্দীপ্ত হয়ে বাঙালি ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক নির্বাচনের শাসক দল মুসলিম লীগের বৈষম্যমূলক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম সফল প্রতিরোধ করে। বাঙালি জাতীয়তাবাদের উদ্বুদ্ধপূর্ব বাংলার মানুষের এরপর ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচনে সাধিকারের প্রশ্নের পশ্চিম পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়। আর এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত সাফল্য অর্জন করে। ফলে বিশ্ব মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র।
সুতরাং বলা যায় বাঙালির স্বাধীনতায় বীজ নিহিত ছিল ভাষা আন্দোলন।