উদ্দীপকের ঘটনার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশের বৈষম্যের মিল আছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, একটি রাষ্ট্রের পাঁচটি প্রদেশের মধ্যে জনবহুল প্রদেশটি কেন্দ্রের নিকট থেকে নানা অগণতান্ত্রিক আচরণের শিকার হয়। উক্ত প্রদেশের জনগণের মাতৃভাষা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন অস্বীকার এবং সামরিক ও বেসামরিক, অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়। উদ্দীপকের এ ঘটনার সাথে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষা-সংস্কৃতি, ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে। উদ্দীপকের নীতির অনুরুপ পশ্চিম পাকিস্তান সরকার পূর্ব পাকিস্তানের সংস্কৃতি, শিক্ষা, রাজনীতি ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে শোষণ চালায়। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে মাত্র ৩২% বাঙালি মন্ত্রী থাকলেও তারা কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাননি। ১৯৬৪-১৯৬৫ সালে কেন্দ্রীয় সরকারে ১৭ জন সচিবের মাত্র দুজন বাঙালি ভারপ্রাপ্ত সচিব ছিলেন। আবার পররাষ্ট্র দফতরে ৭৪ জন পশ্চিম পাকিস্তানি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা থাকলেও পূর্ব পাকিস্তানের ছিল ৩০ জন। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ৯১.৯% পশ্চিম পাকিস্তিানি থাকলেও মাত্র ৮.১% পূর্ব পাকিস্তানি কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিল। পশ্চিম পাকিস্তানের জেনারেল, লেফটেন্যান্ট জেনারেলের পাশাপাশি ১৩ জন মেজর জেনারেল ছিল। অপরদিকে পূর্ব পাকিস্তানের মাত্র ১ জন মেজর জেনারেল ছিলেন। শিক্ষাক্ষেত্রে দেখা যায়, ১৯৬২-৬৩ অর্থবছরে পশ্চিম পাকিস্তানে ২০৩.৪ কোটি বরাদ্দ হলে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য ছিল মাত্র ৭৬.৫ কোটি। তাছাড়া সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক শোষণ চালানো হয়। ৫৬.৪% মানুষের মুখের ভাষায় পরিবর্তে মাত্র ৭.২% মানুষের ভাষা উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার চেষ্টা চালানো হয়। ১৯৬৭ সালে রবীন্দ্র সংগীত ও বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন নিষিদ্ধ করে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বৈষম্য করা হয়। তাছাড়া খেলাধুলার স্টেডিয়াম, বিনোদন কেন্দ্র, শিশু পার্ক সবই পশ্চিম পাকিস্তানে ছিল।