উদ্দীপকের কর্মকাণ্ডে বাঙালির ভাষা আন্দোলনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাসে ভাষা আন্দোলন একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। পূর্ব পাকিস্তানি শাসকবর্গ পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম থেকেই বাঙালিদের প্রতি বৈষম্যমূলক নীতি গ্রহণ করে। এরই অংশ হিসেবে ভাষার ওপর আঘাত আনে। এর প্রতিবাদে ভাষা আন্দোলন সংঘটিত হয়। উদ্দীপকে এ আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাসরত বাঙালিরা প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে একটি বিশেষ দিন উদযাপন করে। "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো" গানটি দিয়ে তারা দিনের কার্যক্রম শুরু করে। দিনের শেষে সকল শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করার শপথের মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শেষ করে। এ কার্যক্রম ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের কথা মনে করিয়ে দেয়। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতি বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে রাজপথে নামে। পাকিস্তানি বর্বর পুলিশ তাদের ওপর গুলি বর্ষণ করে। এতে ঘটনাস্থলে শহিদ হন ছাত্র রফিক উদ্দিন আহমদ, আবুল বরকত, আবদুল জব্বার। আবদুস সালাম ২১ ফেব্রুয়ারি গুলিবিদ্ধ হন, তবে মৃত্যুবরণ করেন ৭ এপ্রিল। এ ঘটনার প্রতিবাদে শোভাযাত্রা বের করলে এতে পুলিশ আবারও গুলি চালায়। এতে আরও কয়েক জন শহিদ হন। আহত ও গ্রেফতার হন অনেকে। ভাষার জন্য আত্মদানকারী এ শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ও তাদের স্মৃতি চিরস্মরণীয় করে রাখতে শহিদ মিনার নির্মাণ করা হয়। শুধু দেশে নয়, বিদেশের মাটিতেও বেশকিছু শহিদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতি দিলে শহিদ মিনার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার প্রতীক হয়ে ওঠে। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির ২১ তারিখ সারাবিশ্বের মানুষ সকালে খালি পায়ে 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' গানটি গেয়ে শহিদ মিনারে ফুল দেয়। এভাবে সারাদিন শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অন্যায়ের প্রতি প্রতিবাদী শপথ নিয়ে তারা দিন শেষ করে। সুতরাং, উদ্দীপকের কর্মকাণ্ডে বাঙালির ভাষা আন্দোলনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।