উদ্দীপকে মতো অর্থাৎ ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হওয়ার ফলেই আমাদের স্বাধীনতার পথ উন্মুক্ত হয়েছিল— বক্তব্যটি যথার্থ।
স্বৈরশাসক আইয়ুব সরকার পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক প্রতিটি ক্ষেত্রে শোষণ ও বৈষম্যমূলক নীতি গ্রহণ করে। বাঙালির ছয় দফা দাবিকে নস্যাৎ করে দিতে আইয়ুব সরকার ১৯৬৮ সালে আগরতলা মামলা দায়ের করে। এর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের ছয় দফা ও ছাত্রদের এগারো দফাভিত্তিক আন্দোলন গড়ে ওঠে। ১৯৬৯ সালে এ আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ লাভ করে এবং গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। বাঙালি জাতির রাজনৈতিক বিকাশে এ আন্দোলন তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ আন্দোলনে ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান ও শিক্ষক শামসুজ্জোহাসহ অনেকে শহিদ হন ।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র জন্ম হওয়ার সময় থেকেই পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানকে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। বাঙালির ছয় দফাভিত্তিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে উপেক্ষা করে বাঙালির মনে ক্ষোভের বহ্নিশিখা প্রজ্বলিত করেছিল। এ অবস্থায় সরকারের আগরতলার মিথ্যা মামলা দায়ের আন্দোলনের গতিকে আরও তীব্র করে। এ অবস্থায় কারাগারে আটক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিতে বললে তিনি তা অস্বীকার করেন। এদিকে ১৫ ফেব্রুয়ারি ক্যান্টনমেন্টে সার্জেন্ট জহুরুল হক এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. শামসুজ্জোহা গুলিতে নিহত হলে সারাদেশে আন্দোলনের দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ১৯৬৯ সালের আন্দোলনের মুখে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ১৯৭০ সালে নির্বাচন ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। আর এ অভ্যুত্থানের পরবর্তী বড় সাফল্য হলো ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মহাবিজয়। এ আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ হয়ে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ আওয়ামী লীগকে রায় দেয়। উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ১৯৭১ এর মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল। উদ্দীপকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের ন্যায় ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সফলতা স্বাধীনতা আন্দোলনের পাথেয় হিসেবে ভূমিকা রেখেছে ।
উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হওয়ার ফলেই আমাদের স্বাধীনতার পথ উন্মুক্ত হয়েছিল ।