উদ্দীপকে বর্ণিত ষড়যন্ত্রমূলক মামলা আমার পাঠ্যবইয়ের ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সামরিক ও স্বৈরাচারী প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের শাসনামলের সবচেয়ে ঘৃণ্য ও প্রহসনমূলক ঘটনা হলো ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা। পূর্ব পাকিস্তানে ছয় দফাভিত্তিক আন্দোলন নস্যাৎ করে এ অঞ্চলে আইয়ুব খানের ক্ষমতা ও প্রভাব বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা মাথায় রেখেই এ মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। তবে গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান এ মামলা প্রত্যাহার করেন। এমনকি পদত্যাগ করতেও বাধ্য হন। অনুরূপ প্রতিচ্ছবি উদ্দীপকেও লক্ষণীয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত হ্যারল্ড ম্যাকমিলান ১৯৫৭ সালে ইংল্যান্ডের শাসন ক্ষমতায় আসলে আয়ারল্যান্ডবাসীর জীবনে চরম দুঃখ-দুর্দশা নেমে আসে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য শন ম্যাকব্রাইড নামে একজন মহান নেতা এগিয়ে আসেন। তিনি আয়ারল্যান্ডবাসীর মুক্তির আশায় স্বাধিকার ও স্বায়ত্তশাসনের দাবি তুলে ধরেন। এ দাবিগুলো নিয়ে আন্দোলন শুরু হলে চতুর ম্যাকমিলান তাদের দমনে একটি মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলক মামলার আশ্রয় নেন। ফলশ্রুতিতে আন্দোলন আরও বেগবান হয় এবং ১৯৬৩ সালে তিনি পদত্যাগে বাধ্য হন। একইভাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালে ক্ষমতা দখল করেন। তিনি ক্ষমতায় এসেই সামরিক আইন জারি করেন এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতাসহ জনগণের রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেন। তার এরূপ সামরিক ও স্বৈরাচারী শাসন এবং দমন-পীড়নে পূর্ব বাংলার জনজীবনে চরম দুঃখ-দুর্দশা নেমে আসে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির ন্যায়সঙ্গত অধিকার | সংবলিত ছয়দফা দাবি পেশ করেন। সামরিক সরকার এ দাবি | প্রত্যাখ্যান করলে বাঙালিরা তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। এ পরিস্থিতিতে আইয়ুব সরকার বাঙালির জাতীয়তাবাদী আন্দোলন নস্যাৎ এবং বস্তাবন্ধুকে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে তাকে প্রধান আসামি করে মোট ৩৫ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৯৬৮ সালের ১৮ জানুয়ারি একটি রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করে। এটিই ইতিহাসে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা নামে খ্যাত। এ মামলা পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের মনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়, যেটি পরবর্তী সময়ে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ফলে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খান মামলা প্রত্যাহার করেন এবং ২৫ মার্চ পদত্যাগে বাধ্য হন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার চিত্র ফুটে উঠেছে।