উদ্দীপকের ঘটনাটি আমার পঠিত ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ।
মায়ের ভাষা প্রত্যেক মানুষের প্রাণের ভাষা। তাই মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার মানুষের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার থেকে যদি কাউকে বঞ্চিত করা হয় তবে তার মধ্যে প্রতিবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটে। যেমনটি বাঙালিদের 'ক্ষেত্রে লক্ষণীয়। বাঙালির মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার লক্ষ্যে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে, যেটি ইতিহাসে ভাষা আন্দোলন নামে পরিচিত।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জুনানগর রাষ্ট্রটি পূর্ব ও পশ্চিম দুই ভাগে বিভক্ত থাকলেও কেন্দ্রীয় প্রশাসনব্যবস্থা পশ্চিম অঞ্চল হতে পরিচালনা করা হতো। কিন্তু পশ্চিমারা নানাভাবে পূর্বাঞ্চলের প্রতি- বৈষম্যমূলক নীতি আরোপ করতে থাকে। প্রথমেই তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্বাঞ্চলের জনগণের মাতৃভাষার পরিবর্তে পশ্চিম অঞ্চলের অন্য একটি ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করে। এতে পূর্বাঞ্চলে তীব্র প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে ওঠে। সরকারি নির্দেশ অমান্য করে বিক্ষুব্ধ জনতা মিছিল বের করলে পুলিশের গুলিতে কতিপয় আন্দোলনকারী জনতা শহিদ হয়। একইভাবে ১৯৪৭ সালের ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টির পর পূর্ব বাংলার প্রতি পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী নানারকম বৈষম্য প্রদর্শন করেছিল। তারা ! পাকিস্তানের ৫৬.৪০ ভাগ লোকের মুখের ভাষা বাংলার পরিবর্তে মাত্র ৩.২৭ ভাগ লোকের মুখের ভাষা উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘৃণ্য পরিকল্পনা করে বাঙালি সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানে। ফলে পূর্ব বাংলার জনগণ এর প্রতি তীব্র প্রতিবাদ করে। ১৯৪৮ সালে ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে অনুষ্ঠিত সমাবর্তন অনুষ্ঠানে জিন্নাহ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা দিলে ছাত্ররা এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। মাতৃভাষা রক্ষার দাবিতে তারা তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৪৭ সাল থেকে চলমান এই আন্দোলন ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। এদিন ছাত্ররা 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই'-স্লোগান দিতে দিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে পৌছলে পুলিশ তাদের ওপর গুলিবর্ষণ করে । এতে রফিক উদ্দিন, আবুল বরকত, আব্দুস সালাম, আব্দুল জব্বারসহ অনেকে শহিদ হন। তাদের এ আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনার সাথে ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের সাদৃশ্য রয়েছে ।