বাংলা ভাষার সংগ্রামী চেতনার জন্য সামাদের মত আমিও একজন বাঙালি হিসেবে গর্ববোধ করি।
ভাষার জন্য বাঙালিদের রক্ত দানের ইতিহাস পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। দেশ বিভাগের পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানিরা পূর্ব-পাকিস্তানিদের ওপর নানা রকম শাসন-শোষণ চালাতে থাকে। তারা প্রথমেই পূর্ব বাংলার মানুষের ভাষার ওপর আঘাত হানার চেষ্টা করে এবং উর্দুকে মাতৃভাষা করার জন্য অন্যায় দাবি জানায়। কিন্তু বাংলার দামাল ছেলেরা তাদের অন্যায় দাবি মেনে না নিয়ে প্রতিবাদ মিছিল করলে তারা অন্যায়ভাবে মিছিলে গুলি চালালে অনেকেই শহিদ হন।
সেদিন পুলিশের গুলিতে রফিক, জব্বার, সালামসহ আরও অনেকের তাজা রক্ত ঝরে। ভাষার জন্য বাঙালিদের রক্তদানের এমন ইতিহাস অনন্য। রক্তদানের মাধ্যমেই বাঙালিরা তাদের জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রথম দাবি আদায়ে সফল হয়। বাঙালিদের অবিরাম সংগ্রামের জন্য ১৯৫৪ সালে পাকিস্তানের গণপরিষদে সরকারি ভাষা হিসেবে উর্দু ও বাংলা এবং পার্লামেন্টে ইংরেজি ছাড়াও উর্দু ও বাংলায় বক্তব্য রাখার বিধান করা হয়। ১৯৫৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ বাংলা ও উর্দু উভয় ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেয়, যা পাকিস্তানের প্রথম সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এ স্বীকৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০০ সাল থেকে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোতে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। ভাষার জন্য রক্ত দান করার শহিদের আত্মত্যাগের জন্যই শুধু এমন অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। যা বিশ্বের বুকে বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশকে অনন্য মর্যাদায় আসীন করেছে।
সুতরাং ভাষার জন্য বাঙালিরা যেহেতু নিজের জীবন উৎসর্গ করতে পিছপা হয়নি, সে কারণে বাংলা ভাষা আমার গর্ব, বাংলা ভাষা আমার অহংকার ।