উদ্দীপকে উল্লেখিত আন্দোলনের সাথে আমার পঠিত পূর্ব পাকিস্তানের ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান সামঞ্জস্যপূর্ণ ।
১৯৫৮ সালের অক্টোবর মাসে জেনারেল আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করে পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণা, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও বিধি-বিধান পর্যুদস্ত করেন। এছাড়া আইয়ুব খানের শাসনামলে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে পর্বত সমান বৈষম্য সৃষ্টি হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে সংঘটিত হয় '৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান। এর প্রতিফলন উদ্দীপকেও লক্ষণীয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আফ্রিকা মহাদেশের একটি দেশে এক সামরিক কর্মকর্তা পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর স্বৈরাচারী নীতিতে রাষ্ট্র পরিচালনা শুরু করেন। দেশের জনগণ এক সময়ে তার অত্যাচার থেকে মুক্ত হতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করে। মানুষের প্রবল আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচারী প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়। এ রাষ্ট্রপতি পাকিস্তানি শাসক আইয়ুব খানকে প্রতিনিধিত্ব করেন। কেননা আইয়ুব খানই মৌলিক গণতন্ত্রের নামে পাতানো নির্বাচন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি হন এবং বৈষম্যমূলক স্বৈরাচারী শাসন শুরু করেন। পাক সরকারের বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়লে আইয়ুব সরকার ১৯৬৮ সালে জানুয়ারি মাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা দায়ের করে। ফলে আইয়ুব সরকারের এ সকল প্রহসনের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতি DAC-এর ৮ দফার ভিত্তিতে এবং ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১১ দফার ভিত্তিতে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। ক্রমে তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ২০ জানুয়ারি ১৯৬৯ সালে ছাত্রদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের বিরুদ্ধে সারা দেশে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আর ২০ তারিখে নিহত আসাদের লাশ নিয়ে ২১ তারিখে ছাত্ররা গণঅভ্যুত্থানের নতুন রূপদান করে। এভাবে গণআন্দোলনের মুখে আইয়ুব খান পদত্যাগ করে এবং গণঅভ্যুত্থান সফলতা লাভ করে। উদ্দীপকেও ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের প্রতিফলন ঘটেছে।