না, উদ্দীপকের মতো জোট গঠনই ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বিজয়ের একমাত্র কারণ ছিল না; বরং এ বিজয়ের পেছনে নানাবিধ কারণ বিদ্যমান ছিল।
১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে মধ্য, বাম ও ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দলসমূহের ঐক্যজোট গঠিত হওয়ায় যুক্তফ্রন্টের শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং বিজয় সহজতর হয়। তবে এ জোট গঠন ছাড়া যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের বহুবিধ কারণ বিদ্যমান ছিল।
উদ্দীপকে ২০১৫ সালের নভেম্বরে ভারতের বিহার রাজ্যের প্রাদেশিক নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে জোট গঠন এবং জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভের ঘটনা বলা হয়েছে। এ ঘটনা আমাদেরকে ১৯৫৪ সালে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে যুক্তফ্রন্টের জোটবদ্ধ নির্বাচনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। মূলত অনেক দিন ধরেই মুসলিম লীগের অভ্যন্তরে আদর্শগত কোন্দল বিরাজ করছিল, যা মুসলিম লীগের পরাজয়কে ত্বরান্বিত করে। এছাড়া একুশে ফেব্রুয়ারির মর্মান্তিক ঘটনা, মুসলিম লীগের অগণতান্ত্রিক মনোভাব, স্বায়ত্তশাসনের প্রতি মুসলিম নেতৃবৃন্দের অবহেলা প্রদর্শন, পূর্ব পাকিস্তানের স্বার্থের প্রতি উপেক্ষা প্রদর্শন, মুসলিম লীগ সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নির্যাতনমূলক পদক্ষেপ, মধ্যবিত্ত বাঙালি শ্রেণির বিকাশ এবং সংবিধান প্রণয়নে ব্যর্থতা মুসলিম লীগের পরাজয় ও যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের উল্লেখযোগ্য কারণ ।
পরিশেষে বলা যায়, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা ভাসানী এবং এ কে ফজলুল হকের মতো সুযোগ্য ও জননন্দিত নেতার নেতৃত্ব এবং পূর্ব বাংলার প্রতি কেন্দ্রের সহমর্মিতার অভাব, অবিচার ও শোষণমূলক নীতির কারণে যুক্তফ্রন্টের বিজয় অর্জিত হয় ।