উদ্দীপকের রাজবন্দীদের মুক্তির দাবিতে সংঘটিত গন আন্দোলনের সাথে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের মিল পাওয়া যায়। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো: বাঙালি জাতির রাজনৈতিক বিকাশ তথা স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটন। বস্তুত প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের সব গণবিরোদী কর্মকান্ড ও সামরিক স্বৈরাচারের অবসান এবং স্বাদিকার অর্জনের লক্ষ্যে ছয় দফা ও ছাত্রদের ১১ দফার ভিত্তিতে ১৯৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তানের পরিচালিত তীব্র গণআন্দোলনেই '৬৯ -এর গণঅভ্যুত্থান' নামে পরিচিত। উদ্দীপকের গণআন্দোলন এই আন্দোলনকে ইঙ্গিত করেছে। উদ্দীপাকে বলা হয়েছে, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার জন্য নেলসন ম্যান্ডেলা ও তার সহযোগীদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর কারাগারপ এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নেলসন ম্যান্ডেলাসহ সকল রাজবন্দীরা মুক্তির দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। এ আন্দোলনের মুখে বর্ণবাদী সরকার ম্যান্ডেলাকে মুক্তি দেয়। ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের ক্ষেত্রে এমনটিই দেখা যায়। আগরতলা মামলা এবং বঙ্গবন্ধুর কারাদণ্ড পূর্ব বাংলার মানুষের তীব্র আন্দোলনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টিকারী। পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র সংগঠনগুলো একত্রিত হয়ে 'সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করে। এই পরিষদ ১১ দফা দাবি পেশ করে তীব্র আন্দোলন শুরু করে। এ আন্দোলন আইয়ুব বিরোধী গণআন্দোলনের রূপ নেয়। এ সময় পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান, বন্দী অবস্থায় ঢাকা সেনানিবাসে আগরতলা মামলার আসামি সার্জেন্ট জহুরুল হক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহা নিহত হন। এর ফলে আন্দোল গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। অবশেষে গনঅভুত্থানের মুখে সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। মামলার প্রধান আসামি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ কারাবন্দীদের মুক্তি দেওয়া হয়।সুতরাং বুঝা যায়, উদ্দীপকের আন্দোলন ১৯৬৯ সালের আন্দোলনের সাদৃশ্য স্বরূপ।