এ ধরনের একটি ক্ষেত্রে আন্দোলনের প্রবক্তার অবদান মূল্যায়ন কর।
উত্তর: এ আন্দোলনের প্রবক্তা হলেন হাজি শরীয়তউল্লাহ। তিনি সমাজ সংস্কারসহ মুসলমানদের জাগরণে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেন। হাজি শরীয়তউল্লাহ ছিলেন ফরায়েজি আন্দোলনের প্রবক্তা ও উদ্যোক্তা। তার নেতৃত্বেই ফরায়েজি আন্দোলন প্রতিষ্ঠা লাভ করে। তিনি প্রথমেই ধর্মীয় কুসংস্কারগুলো দূর করার জন্য মনোনিবেশ করেন। তিনি মুসলিম সমাজে ফরজ, ওয়াজিব, নফল ও মুস্তাহাবকে তাদের গুরুত্ব অনুসারে আমল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ফরজ বাদ দিয়ে ওয়াজিব, আবার ওয়াজিব বাদ দিয়ে সুন্নাতকে গুরুত্ব দিতে নিষেধ করেন। আবার সুন্নাত বাদ দিয়ে নফল নিয়ে টানাটানি করতেও তিনি নিষেধ করেন। ফরজ নামাজ আদায় না করে শবে কদরের রাতে সুন্নাত বা নফল নামাজ আদায়ে অধিক গুরুত্ব দিতে নিষেধ করেন। তিনি লক্ষ করেন, মুসলিম সমাজে বহু ফরজ অবহেলিত অথচ বহু নফল সুপ্রতিষ্ঠিত। একজন পরহেজগার ও ধার্মিক মুমিন সকল ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাত আদায় করার পাশাপাশি সুযোগ-সুবিধা মতো আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্য নফল ও মুস্তাহাবের ওপর গুরুত্ব দেবেন। সকল ফরজ পালনের ওপর গুরুত্বারোপের কারণেই তিনি তার এ আন্দোলন ফরায়েজি আন্দোলন নামে পরিচিত হয়েছে। সকল ফরজ পালনের ক্ষেত্রে তিনি শিরক ও বিদআত পরিহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। কেননা শিরক হলো মারাত্মক বড় গুনাহ। আল্লাহর ক্ষমতার সাথে আল্লাহর মর্যাদার সাথে এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের সাথে অন্য কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে শরিক বা অংশীদার করা যাবে না। শিরক ও বিদআত থেকে বাঁচানোর জন্য হাজি শরীয়তউল্লাহ ব্যাপক প্রচারণা চালান। এরপর তিনি এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণে কর্মসূচি গ্রহণ করে। তিনি ব্রিটিশ শাসিত ভারতকে 'দারুল হারব' বলে চিহ্নিত করেছেন। সেই সময় গরু জবাই করা নিষেধ ছিল এবং পূজা-পার্বণে মুসলমানদের ওপর কর দেওয়ার বিধান ছিল। তিনি মুসলমানদের জবাই করতে বলেন এবং পূজার জন্য কর দিতে নিষেধ করেন। এতে হিন্দু জমিদারদের সাথে ফরায়েজি আন্দোলনকারীদের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটলেও তার বিচক্ষণতার কারণে হিন্দু-মুসলিম দাঙা হয়নি।
HSC Islamic History 2nd paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic History 2nd paper · সৃজনশীল
এ ধরনের একটি ক্ষেত্রে আন্দোলনের প্রবক্তার অবদান মূল্যায়ন কর।
উদ্দীপক
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর