উদ্দীপকে বর্ণিত 'অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম' এর সাথে পূর্ব পাকিস্তানে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পরিচালিত 'অপারেশন সার্চলাইট' এর ঘটনার মিল রয়েছে ।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নিরস্ত্র বাঙালিদের নির্বিচারে গণহত্যা বিশ্বের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়ের সংযোজন করে। বিশ্বে স্বাধীনতাকামী সাধারণ মানুষকে এরূপ হত্যার নজির খুব কমই দেখা যায়। পাক-হানাদার বাহিনী সুপরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করে। উদ্দীপকেও এ ঘটনার প্রতিচিত্র ফুটে উঠেছে ।
ইরাকি প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বুশের নির্দেশে রাতের অন্ধকারে মার্কিন বাহিনী বাগদাদের নিরীহ জনগণের ওপর নির্বিচারে বোমা বর্ষণ করে এবং গণহত্যা চালায়। আমেরিকানরা এই অপারেশনের নাম দেয় 'অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম'। ঠিক একইভাবে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অভূতপূর্ব বিজয় লাভ সত্ত্বেও ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা হস্তান্তরে নানা টালবাহানা করে। আলোচনার নামে অযথা সময় নষ্ট করে। এক পর্যায়ে তিনি এদেশে গণহত্যা চালানোর নির্দেশ দেন। তার নির্দেশে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মুক্তিকামী বাঙালিদের ওপর নির্মম হত্যাকাণ্ড চালায়। এ রাতে প্রায় ৫০ হাজার বাঙালি নর-নারী, ও শিশু গণহত্যার শিকার হয়। ছাত্র, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ, পেশাজীবীসহ সব স্তরের জনগণকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়। পাকবাহিনী এ জঘন্য হত্যাকাণ্ডের নাম দেয় 'অপারেশন সার্চলাইট'। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত ইরাকিদের ওপর মার্কিনিদের পরিচালিত 'অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম' এর সাথে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের গণহত্যার মিল রয়েছে।