উদ্দীপকে পাকিস্তানি বাহিনীর ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের হত্যাযজ্ঞের ঘটনার ইঙ্গিত বহন করে।
উদ্দীপকে কালিরঞ্জন শীল বলেন, "আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। জগন্নাথ হলেন দক্ষিণ হলের দক্ষিণ ব্লকের ২৩৫ নং রুমের বাসিন্দা। ৭১'-এর মার্চ মাসের এক রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গোলগুলির ভয়ংকর শব্দে ঘুম ভেঙে চমকে উঠলাম।" যা ২৫শে মার্চের গণহত্যাকে নির্দেশ করে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে টিক্কা খান ও রাওফরমান আলী পূর্ব পাকিস্তানে তথা বাংলাদেশে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। ১১ চৈত্রের বৃহস্পতিবারে পাকিস্তানি বাহিনী ট্যাংকও সামরিক যানসহ শহরের মূলকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, রাজারবাগ পুলিশ লাইন ও ঢাকা পিলখানায় হামলা চালায়। প্রথমে ফার্মগেটে বাঙালি জনতাকে হত্যা করে এবং পিলখানায় অসংখ্য ইপিআর সদস্য শহিদ হন। বালুচ ও পাঞ্জাব রেজিমেন্টের বাছাইকৃত কসাই সেনারা প্রতিটি হলে ঢুকে ছাত্রদের নৃশংসভাবে হত্যা করে। সমগ্র ঢাকা শহরে তাদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ফলে লাশ আর লাশ পড়ে থাকে। চারদিকে শুধু আগুন আর আহাজারি। দি পিপসল, ইত্তেফাক, সংবাদ ও গণবাংলা পত্রিকা অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং আত্মভোলা কবি শহিদ সাবেরসহ বহু সাংবাদকর্মী আগুনে পুড়ে মারা যায়। নয়া বাজার কাঠের আড়ত, বস্তি, শাখারি বাজার, রায়ের বাজার সব জায়গায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তাদের হাত থেকে নারী, শিশু, বৃদ্ধ কেউ রেহাই পায়নি। তাদের নৃশংসতায় ৩০ লক্ষ নর-নারী শহিদ হন এবং ২ লক্ষ মা-বোন তাদের ইজ্জত হারান।
অতএব, কালিয়ঞ্জন শীলের কথা ২৫শে মার্চের গণহত্যার ইঙ্গিত বহন করে।