উদ্দীপকে ৭ মার্চের ভাষণের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান মুজিবুর রহমানের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে। যার প্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পল্টনের জনসভায় অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেন এবং ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। যা ইতিহাসে ৭মার্চের ভাষণ নামে পরিচিত। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ, ১৩৭৭ বঙ্গাব্দের ১২ ফাল্গুন রোজ রবিবার লক্ষ লক্ষ জনতার সামনে বঙ্গবন্ধু দুপুর ৩টা ২০ মিনিটে তার ভাষণ শুরু করেন। এ ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেন, "আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়। বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলা মানুষ অধিকার চায়।" তিনি আরো বলেন, ১৯৫২ সালে রক্ত দিয়েছি, ১৯৫৪ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করেও ক্ষমতায় বসতে পারিনি। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান মার্শাল ল জারি করে ১০ বছর পর্যন্ত আমাদের গোলাম করে রেখেছে। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলনে ৭ জুনে আমার ছেলেদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ১৯৬৯ সালের আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন হওয়ার পরে যখন ইয়াহিয়া খান সাহেব সরকার নিলেন, "তিনি বললেন দেশে শাসনতন্ত্র দেবেন, গণতন্ত্র দেবেন, আমরা মেনে নিলাম।" তিনি বলেন, মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, "রক্ত আরো দেবো, এই দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।
উদ্দীপকে জহির আহমেদ চৌধুরী তার একটি ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট-এ বাংলাদেশের তথা সারা পৃথিবীর সাড়া জাগানোর একটি ভাষণ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য প্রদান করেছেন। যাতে বলা হয়, রেডিও-টেলিভিশনের কর্মচারীরা যদি রেডিওতে আমাদের কথা না শোনে তাহলে কোনো বাঙালি রেডিও-স্টেশনে যাবেন না। যা ৭ই মার্চের ভাষণকে ইঙ্গিত করে।