উদ্দীপকে গেরিলা চলচ্চিত্রে মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত অপারেশন সার্চলাইট নামক হত্যাকান্ডের চিত্র প্রদর্শিত হয়েছে।
উদ্দীপকে মনীষা নাসিরউদ্দিন ইউসুফ পরিচালিত গেরিলা চলচ্চিত্রে পাক-বাহিনী কর্তৃক অপারেশন সার্চলাইট নামক হত্যাযজ্ঞ দেখছিল। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে টিক্কা খান ও রাওফরমান আলী পূর্ব পাকিস্তানে তথা বাংলাদেশে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। ১১ চৈত্রের বৃহস্পতিবারে পাকিস্তানি বাহিনী ট্যাংক ও সামরিক যানসহ শহরের মূলকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, রাজারবাগ পুলিশ লাইন ও ঢাকা পিলখানায় হামলা চালায়। প্রথমে ফার্মগেটে বাঙালি জনতাকে হত্যা করে এবং পিলখানায় অসংখ্য ইপিআর সদস্য শহিদ হন। বালুচ ও পাঞ্জাব রেজিমেন্টের বাছাইকৃত কসাই সেনারা প্রতিটি হলে ঢুকে ছাত্রদের নৃশংসভাবে হত্যা করে। জগন্নাথ হলের সিঁড়ি, বারান্দা ও রাস্তায় শত শত ছাত্রের লাশের স্তূপ তৈরি হয়। ছাত্রীদের রোকেয়া হলেও হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। সমগ্র ঢাকা শহরে তাদের নৃশংস হত্যাকান্ডের ফলে লাশ আর লাশ পড়ে থাকে। চারদিকে শুধু আগুন আর আহাজারি। দি পিপসল, ইত্তেফাক, সংবাদ ও গণবাংলা পত্রিকা অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং আত্মভোলা কৃবি শহিদ সাবেরসহ বহু সংবাদকর্মী আগুনে পুড়ে মারা যায়। নয়া বাজার কাঠের আড়ত, বস্তি, শাখারি বাজার, রায়ের বাজার সব জায়গায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুনের শিখায় আকাশ লাল হয়ে উঠে। তাদের হাত থেকে নারী, শিশু, বৃদ্ধ কেউ রেহাই পায়নি। ঢাকার বাইরে রংপুর, সৈয়দপুর, জয়দেবপুরসহ নানা স্থানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আক্রমণে বহু নিরস্ত্র বাঙালি নিহত হয়। তারা অসংখ্য বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়। তাদের নৃশংসতায় ৩০ লক্ষ নর-নারী শহিদ হন এবং ২ লক্ষ মা-বোন তাদের ইজ্জত হারান।
অতএব, পাকিস্তানি বাহিনী বাংলাদেশে ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড চালায়। তাদের নৃশংসতার হাত থেকে নারী ও শিশুরাও রক্ষা পায়নি।