উদ্দীপকের সাথে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের ওপর পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচার-নির্যাতন, গণহত্যা এবং এর বিরুদ্ধে বাঙালির ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মিল রয়েছে।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্যমূলক নীতি গ্রহণ করে। তাদের অত্যাচার- নির্যাতনে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ নানা বঞ্চনা ও শোষণের শিকার হতে থাকে। তাছাড়া বিভিন্ন সময়ে পাকিস্তান সরকার বাঙালির ওপর নৃশংস গণহত্যা চালায়। তাদের এ অত্যাচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাঙালি আন্দোলন গড়ে তোলে এবং সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করে। উদ্দীপকে বর্ণিত বসনিয়ার ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি দেখা যায়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই সার্ব শাসকগোষ্ঠীর কাছে বসনীয় জনগোষ্ঠী শোষিত, নিগৃহীত ও বঞ্চিত হতে থাকে। বঞ্চনা থেকে মুক্তি পেতে বসনিয়াবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলন দমনে সার্ব-ক্রোট যৌথশক্তি তাদের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। অবশেষে বসনিয়া স্বাধীনতা অর্জন করে। একইভাবে পূর্ব বাংলার প্রতি পাকিস্তানি শাসকদের নীতি ছিল বৈষম্যমূলক। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক, সামাজিক, শিক্ষাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই এ বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করে। পাকিস্তানিরা প্রতিনিয়ত বাঙালির ন্যায়সংগত -অধিকারকে উপেক্ষা করতে থাকে যা তাদের মনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করে। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ, বঞ্চনায় অতিষ্ঠ হয়ে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর গণহত্যার পর বাঙালিরা সশস্ত্র সংগ্রাম গড়ে তোলে। পাক সরকার বাঙালিদের দমনের জন্য বাংলার অসংখ্য নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করে, তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয় এবং নারী ও শিশুদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালায়। এতসব অত্যাচারের পরও তারা বাঙালিদের দমাতে পারেনি। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করে বাঙালি তাদের স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হয়। উদ্দীপকের বসনিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামেও এ ঘটনার প্রতিফলন ঘটেছে।