উক্ত হত্যাকাণ্ড তথা বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ছিল জাতীয় মেধাশূন্য করার নীল নকশা। উক্তিটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বুদ্ধিজীবীরা ব্যাপক অবদান রাখে বিধায় পাকিস্তান হানাদার বাহিনী তাদের হত্যা করে জাতিকে মেধাশূন্য করার অপচেষ্টা করে। মুক্তিযুদ্ধে শিল্পী, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীদের অবদান ছিল গৌরবোজ্জ্বল। যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল ও নৈতিক শক্তি ধরে রাখার ক্ষেত্রে শিল্পী-সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবী, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মীর অবদান ছিল খুবই প্রশংসনীয়। তারা নিজের ও পরিবারের সদস্যদের রুজি-রোজগার ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নানাভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছেন। মুক্তিযোদ্ধাভিত্তিক লেখালেখি স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র খবর পাঠ, দেশাত্মবোধক গান, কবিতা পাঠ, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গান, নাটক, কথিকা, এম. আর. আখতার মুকুলের অত্যন্ত জনপ্রিয় 'চরমপত্র' অনুষ্ঠান এবং 'জল্লাদের দরবার' ইত্যাদি অনুষ্ঠান ছিল শিল্পী, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীদের। এসব অনুষ্ঠান যুদ্ধের ময়দানের মুক্তিযোদ্ধাদের মানসিক ও নৈতিক বল ধরে রাখতে সাহায্য করেছে, সাহস যুগিয়েছে, জনগণকে শত্রুর বিরুদ্ধে দুর্দমনীয় করেছে। তাই তাদের হত্যা করে হানাদাররা জাতিকে মেধাশূন্য করতে চেয়েছে।পরিশেষে বলা যায়, হানাদার বাহিনী জাতির ভবিষ্যৎ উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত ও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান তথা বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে এদেশকে মেধাশূন্য করার অপচেষ্টা চালায়।