প্রকৃতিগত দিক থেকে পাকিস্তানের হত্যাকান্ড একটি নৃশংস গণহত্যা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ একটি জনযুদ্ধ। কেননা এ যুদ্ধে পাকস্তিানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে এ দেশের সকল শ্রেণির মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল।
স্বাধীনতা যুদ্ধ প্রতিটি জাতির ইতিহাসে একটি মহান ঘটনা। কিন্তু এ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আত্মোৎসর্গিত হয় অনেক প্রাণ, আর এ লক্ষ কোটি প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয় একটি দেশের স্বাধীনতা। তদ্রূপ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও প্রাণ দিতে হয়েছে অনেক, অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। বাঙালি জাতি দীর্ঘদিন পর্যন্ত পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক শাসিত ও শোষিত হয়ে আসছিল। এ শাসন ও শোষণের নাগপাশ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য বাঙালিরা স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এর ফলে পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠী বাঙালিদের ওপর নির্মম অত্যাচার ও নির্যাতন চালায়। পাকিস্তান বাহিনী তাদের এদেশীয় দোসরদের সহযোগিতায় এলাকায় এলাকায় ঘুরে অত্যাচার, নির্যাতন, হত্যা, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ চালাত। তারা মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে গাছে বেঁধে নির্যাতন করত। অনেককে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রাখত। এক সাথে অনেক লোককে ধরে হত্যা করলে তাদের গণকবর দিত। এরকম অনেক গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। বাঙালি স্বাধীনতা অর্জন করলেও যেন ভবিষ্যতে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে এজন্য তারা বাংলা শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যার পরিকল্পনা করে। শিক্ষাবিদ, ডাক্তার, সাংবাদিক, বিচারক, আইনজীবীসহ অনেককে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর হত্যা করে মিরপুরের বধ্যভূমিতে ফেলে রেখেছিল। কিন্তু পাকিস্তান বাহিনীর শত অত্যাচার-নির্যাতন বাঙালি জাতির স্বাধীনতা অর্জনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি এবং শেষপর্যন্ত ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে।