বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান করে মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। এ সরকার পাকিস্তান সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী ইপিআর (পরে বিডিআর ও বর্তমানে বিজিবি) ' বাহিনীতে কর্মরত বাঙালি সদস্য এবং দেশের মুক্তিকামী সাধারণ মানুষকে নিয়ে মুক্তি বাহিনী গঠন করে। যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে এ সরকার দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে। এ ছাড়া বেশ কিছু সাব-সেক্টর ও জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে তিনটি বিশেষ ফোর্স বা বাহিনী গঠন করা হয়। মুজিবনগর সরকারের আহ্বানে প্রতিবেশী ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সমর্থন দেয় এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ এবং অস্ত্র সরবরাহের ব্যবস্থা করে। এছাড়া ভারত এক কোটির বেশি বাংলাদেশি শরণার্থীকে দীর্ঘসময় আশ্রয় দেয় ।
মুজিবনগর সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরে (যেমন— দিল্লি, লন্ডন, নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, স্টকহোম) কূটনীতিকদের পাঠায়। বিদেশের মিশন থেকে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করা হয়। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে সরকার বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেয়। তিনি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্ব নেতৃত্ব ও সাধারণ জনগণের সমর্থন আদায়ের জন্য কাজ করেন। মুজিবনগর সরকারের এসব রাজনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক তৎপরতায় একদিকে দেশের অভ্যন্তরে মুক্তিসেনারা দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলে, অপরদিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অনুকূলে জনমত তৈরি হয়। বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন প্রকাশ করেন অনেক বিশ্বনেতা মুজিবনগর সরকারের সুদক্ষ পরিচালনার মাধ্যমেই দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, মুজিবনগর সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে রাজনৈতিক, সামরিক, কূটনৈতিক প্রভৃতি ক্ষেত্রে সফল কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ সরকারের নেতৃত্বে আমাদের দেশ স্বাধীন হয়। তাই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর সরকারের অবদান অনেক গুরুত্বপূর্ণ।