গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রেসিডেন্ট লিংকন এবং বাংলাদেশের মহান নেতা অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উভয়ের ভাষণ তাৎপর্যপূর্ণ হলেও বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ছিল অধিক দিকনির্দেশনামূলক চেতনায় উদ্দীপ্ত কথাটি যথার্থ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণটি আব্রাহাম লিংকনের ভাষণটির মতোই গুরুত্বপূর্ণ। ১৮৬৩ সালের আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের ৩ মিনিটের ভাষণ এবং বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উভয়ই ইতিহাসের মূল্যবান দলিল। লিংকনের কণ্ঠে ধ্বনিত হলো গণতন্ত্র সম্বন্ধে তার বিখ্যাত উক্তি, 'Democracy is the Goverment of the people, by the people and for the people will never perish from the earth, আর বঙ্গবন্ধু বললেন, 'সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।' ৭ মার্চের এ ৭টি শব্দ বাঙালিকে দুর্বার করে তুলেছিল।
বলাবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ছিল বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। একটি ভাষণ একটি জাতিকে কতটা উদ্দীপ্ত করতে পারে তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ। অনেকে এই ভাষণকে বাংলাদেশের জন্মের প্রাক্কালে সাধারণ জনগণের সাথে তাদের অবিসংবাদিত নেতার সংলাপ হিসেবে আখ্যা দেন। বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণটিকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ভাষণগুলোর একটি বলে বিবেচনা করা হয়। এর মাধ্যমে বাঙালির আশা- আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত হয়। যদিও বঙ্গবন্ধু এ ভাষণে এদেশের মানুষকে তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। মুক্তিপাগল বাঙালি এ আহ্বানেই উদ্বেলিত হয়েছিল। এ ভাষণে বঙ্গবন্ধু দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।' তার এ ঘোষণা বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে দীক্ষিত করে। পরবর্তী সময়ে বাংলার স্বাধীনতা যুদ্ধে এ ভাষণটি মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল। এ ভাষণের ঐতিহাসিক তাৎপর্য উপলব্ধি করে জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা ইউনেস্কো ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর একে 'বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, ৭ মার্চের ভাষণের ফলে পূর্ব পাকিস্তানে যে অসহযোগ আন্দোলনের বিস্তার ঘটেছিল, তা থেকেই আমাদের মুক্তি সংগ্রামের সূচনা হয় এবং স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়। আর এদিক থেকেই আব্রাহাম লিংকনের চেয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ অধিক দিকনির্দেশনামূলক ও গুরুত্ববহ।