উদ্দীপকের দক্ষিণ সুদানের সরকারের ভূমিকা ও বাংলাদেশের মুজিবনগর সরকারের ভূমিকা একই প্রকৃতির ছিল না।
উদ্দীপকের দক্ষিণ সুদানের গঠিত সরকারের মূল দায়িত্ব ছিল কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে দক্ষিণ সুদানের স্বাধীনতার প্রতি বিশ্ব জনমত আদায় বা জনসমর্থন সৃষ্টি করা। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় গঠিত মুজিবনগর সরকারে কাজের পরিধি ছিল আরও ব্যাপক। মুজিবনগর সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতি বিশ্ব জনমত সৃষ্টির পাশাপাশি যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রেও অসামান্য অবদান রেখেছিল।
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয় অনেকটা অপরিকল্পিতভাবে। কিন্তু মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে সামরিক-বেসামরিক জনগণকে নিয়ে মুক্তিবাহিনী গড়ে তোলা হয়। সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়। এছাড়া বেশ কিছু সাব-সেক্টর এবং তিনটি ব্রিগেড গঠন করা হয়। এসব সেক্টর ও ফোর্সে যুদ্ধ করার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদেরকে গেরিলা ট্রেনিং দেওয়া হয়। এছাড়াও প্রচণ্ড প্রতিকূলতার মধ্যে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদান, এক কোটিরও বেশি শরণার্থীর জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করা, স্বাধীন বাংলা বেতারের মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পাদন করে এ সরকার। স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনাকে অক্ষুণ্ণ রাখা, সংগ্রামী মানুষের মনোবল ঠিক রাখার জন্য মুজিবনগর সরকার স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের মাধ্যমে ও পত্র-পত্রিকার সাহায্যে যে প্রচেষ্টা চালিয়েছিল তা মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণার অন্যতম উৎস ছিল। এছাড়াও এ সরকার কলকাতা, দিল্লি, লন্ডন, ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক ও স্টকহোমসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধি নিয়োগ করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারণা ও সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে।
উপরের আলোচনায় প্রতীয়মান হয়, মুজিবনগর সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বিশ্ব জনমত সৃষ্টি ও জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা ছাড়াও সার্বিকভাবে যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বলা যায়, দক্ষিণ সুদানের গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমিকা আর মুজিবনগর সরকারের ভূমিকা একই প্রকৃতির ছিল না।