উদ্দীপকে বর্ণিত নেলসন ম্যান্ডেলার কর্মকান্ডের সাথে পাঠ্যবইয়ের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে। নিম্নে তা ব্যাখ্যা করা হলো: ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রটি গঠনের পর এর দুটি উপদেশ পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে বিশাল পার্থক্য ধীরে ধীরে লক্ষ্য করা যায়। পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিমা দের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য দেখা যায়। এছাড়াও সামরিকক্ষেত্রসহ অন্যান্য উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমে পিছিয়ে পড়ে পূর্ব পাকিস্তান।একই সাথে শুরু হয় পূর্ব পাকিস্তানের উপর পশ্চিমাদের শাসন ও শোষণ। পরবর্তীতে ১৯৭০ সালের আওয়ামী লীগের বিজয় হলেও নির্বাচন পরবর্তী সরকার গঠন করতে দেয় নি তারা। দেশের অধিকার আদায়ের জন্য জোরালোভাবে প্রচেষ্টা শুরু করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পরবর্তীতে ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের পর পরই বাঙালি নিজেদের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হয়ে পড়ে এবং ঝাঁপিয়ে পড়ে মুক্তিযুদ্ধে। এভাবেই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালিরা অধিকার আদায় করতে সক্ষম হয়। উদ্দীপকে ও দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদের কারণে মানুষের অধিকার ক্ষুন্ন হচ্ছিল। নেলসন ম্যান্ডেলা এই অধিকার রক্ষায় আন্দোলন করে যান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তীতে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তিনি স্বৈরাচারী শাসকদের হাত থেকে নিপীড়িত মানুষদেরকে মুক্তি দিয়েছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত নেলসন ম্যান্ডেলার কর্মকান্ডের সাথে পাঠ্যবইয়ের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে।