উদ্দীপকে উল্লিখিত ভাসনের সাথে আমাদের মুক্তির যুদ্ধের পূর্ববর্তী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে মার্চের ভাষণের সামঞ্জস্য রয়েছে। ১৯৭০ সালে সাধারণ ও জাতীয় পরিষদের আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। কিন্তু ইয়াহিয়া খান বঙ্গবন্ধুর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে গরিমসি করেন । এতে সারা প্রদেশ জুড়ে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলন চলাকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ দেন। উদ্দীপকে সে ভাষনের কথাই উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ভিয়েতনাম যুদ্ধ শুরুর অব্যবহিত পূর্বে নেতা হো চি মিন জনগণের উদ্দেশ্যে যে ভাষণ দেন তাতেই যুদ্ধের প্রস্তুতির সব তুলে ধরেন। এ ভাষন থেকে ভিয়েতনামি জনগণ যুদ্ধ-জয়ের মূলমন্ত্র পেয়ে যান। ফলে যুদ্ধ শুরুর আগেই দেশের প্রতিটি অঞ্চলে জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধের প্রস্তুতি নেয়। একইভাবে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণেও এই দিকটি পরিলক্ষিত হয়। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পরদিন থেকে সমগ্র দেশে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়। তার নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, কল-কারখানা সব বন্ধ হয়ে যায়। সমগ্র জনতা বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানে বাহিনীর সদস্যদের প্রতিহত করতে থাকে। মূলত তার এ ভাষনে পরোক্ষভাবে স্বাধীনতা আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছিল। তার আহ্বানে সারা দিয়ে মুক্তিকামি বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ফলে দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ লাভ করে । এজন্য বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতির ইতিহাসে অবিস্মরণীয়। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত ভাষনের সাথে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পূর্ববর্তী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণের সামঞ্জস্য রয়েছে।