উদ্দীপকে নির্বাচন পরবর্তী অবস্থা পাকিস্তানের অবস্থার মত ছিল না। নিচে উক্তিটি বিশ্লেষণ করা হলো : ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পরে ইয়াহিয়া খানের ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা করতে থাকলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় পরিষদে অধিবেশন ডাকেন। কিন্তু ইয়াহিয়া খান এই অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থায়ী ঘোষণা করেন। এতে পূর্ব পাকিস্তানরা বুঝতে পারে পাকিস্তান সরকার কিছুতেই তাদের নায্য অধিকার দিতে চান না। তাই তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। কিন্তু উদ্দীপকে এর বিপরীত দিক দেখা যায়। উদ্দীপকে বলা হয়েছে ইসমাইল হানিয়া ক্ষমতা ছাড়তে অস্বীকার করলে ইসরাইলের দুই দিকে ফিলিস্তিনের দু অংশ পশ্চিম তীর ও গাজা প্রায় আলাদা হয়ে যায়। হামাসের অধীনে গাজা পরিচালিত হয় এবং পিএল এর অধীনে থাকে পশ্চিম তীর। অপরদিকে পাকিস্তানের ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর পূর্ব পাকিস্তানীরা ন্যায্য অধিকারের জন্য আন্দোলন শুরু কর। ঢাকাবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে মিছিল, পথসভা ও জনসভা করতে থাকে। অনেক মিছিল-সমাবেশে বাংলাদেশের স্বাধীনতা স্লোগানও ওঠে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সামরিক সরকারের চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য জনগণের প্রতি উদার আহ্বান জানান। গণবিক্ষোভ দমনে প্রশাসন সান্ধ্যআইন আইন জারি করে। এ আইন অমান্য করলে পুলিশের গুলিতে অনেকে হতাহত হন। অসহযোগ আন্দোলনের ভয়াবহতা দেখে ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদে অধিবেশনের আহ্বান করেন। কিন্তু ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে এই আহবান প্রত্যাখ্যান করেন। এ ভাষনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙ্গালীদের স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেন। এ ডাকে সাড়া দিয়ে পুরো প্রদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ নয়মাস যুদ্ধ করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটায়। অবশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের নির্বাচনের পরবর্তী অবস্থা পাকিস্তানের অবস্থা পুরোপুরি বিপরীত ছিল।