পাঠ্যপুস্তকের আলোকে উক্ত মামলাটির কার্যক্রম ও ফলাফল পর্যালোচনা করো ।
উত্তর: উক্ত মামলাটি তথা ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার কার্যক্রম ও ফলাফল অপরিসীম । বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ১৯৬৮ সালের আগরতলা । মামলা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। পূর্ব পাকিস্তানকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল নেতৃত্বশূন্য করে এ অঞ্চলে স্বৈরাচারী প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের ক্ষমতা ও প্রভাব বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা মাথায় রেখেই এ মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। তবে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় এবং গণদাবির মুখে শেষ পর্যন্ত সরকারের উদ্দেশ্য সফল হয়নি। পাকিস্তান সরকার যে লক্ষ্য নিয়ে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা দায়ের করেছিল তা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। পত্র-পত্রিকায় প্রতিদিন মামলার বিবরণ : প্রকাশ করা হলে জনগণের মধ্যে পাকিস্তান সরকারের বিপক্ষে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এ মামলার ফলে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ পশ্চিম পাকিস্তানভিত্তিক শাসকশ্রেণি এবং তাদের এদেশীয় সমর্থকদের বিরুদ্ধে চূড়ান্তভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়। জনগণ বিচ্ছিন্নতাবাদী ষড়যন্ত্রের কথা বিশ্বাস করার পরিবর্তে এ মামলাকে বাঙালিদের স্বাধিকার আদায়কারী আন্দোলন দমন করার জন্য পাঞ্জাবিদের ষড়যন্ত্র হিসেবে গণ্য করে । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতায় পরিণত হন। ছয় দফা ও এগারো দফা কর্মসূচি এ সময় গণদাবিতে পরিণত হয়। উক্ত মামলার বিবাদীপক্ষের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে স্বায়ত্তশাসনের দাবি ও এর যৌক্তিকতা প্রচার করার চমৎকার সুযোগ সৃষ্টি হয়। অবশ্য পরের বছর ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকার মামলাটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। এরই মধ্য দিয়ে পাকিস্তান সরকারের দুর্বলতা প্রমাণিত হয় । পরিশেষে বলা যায়, আগরতলা মামলা ছিল একটি প্রহসনের মামলা তাই এর বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়। ফলে গণআন্দোলনের মুখে আইয়ুব খান পদত্যাগে বাধ্য হন। এটি ছিল বাঙালির জন্য এক বিরাট বিজয়। অন্যদিকে এ মামলা ছিল আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের আত্মঘাতী পরাজয় ৷
HSC Islamic History 2nd paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic History 2nd paper · সৃজনশীল
পাঠ্যপুস্তকের আলোকে উক্ত মামলাটির কার্যক্রম ও ফলাফল পর্যালোচনা করো ।
উদ্দীপক
ঢাকা সিটি কলেজ · 2024
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর