উদ্দীপকের চিত্রটি কোন ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী? ব্যাখ্যা দাও।
উত্তর: উদ্দীপকের চিত্রটি পাকিস্তানি বাহিনী কর্তৃক ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করার ঘটনার সাক্ষী। নিচে তা ব্যাখ্যা দেওয়া হলো-২৯ অগ্রহায়ণ ১৩৭৮ বৃহস্পতিবার, ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ বাঙালি জাতির জীবনে একটি নতুন দিন। ২৭৬ দিনের মহান মুক্তিযুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়। ১৫ ডিসেম্বরের বিকেল ৫টা থেকে ১৬ ডিসেম্বর সকাল ৯টা পর্যন্ত মিত্রবাহিনীর বিমান হামলা বিরত ছিল। এ সময়ের মধ্যে পাকিস্তানি বাহিনীর প্রধান লে. জেনারেল নিয়াজীকে আত্মসমর্পণের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। দিল্লিস্থ মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে লে. জেনারেল নিয়াজী নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড জনাব এ. কে. খন্দকার যৌথবাহিনীর অধিনায়ক লে. জেনারেল অরোরা ও চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল জাকব দুপুর ১টা নাগাদ ঢাকা এসে পৌছেন। আত্মসমর্পণের খবর বেতারে প্রচারের ফলে হাজার হাজার লোক 'জয় বাংলা' স্লোগান দিতে দিতে রেসকোর্স ময়দানে হাজির হন। 'জয় বাংলা' স্লোগান ঢাকার আকাশ- বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে। রেসকোর্স ময়দানে খোলা আকাশের নিচে একটি টেবিলের একদিকে লে. জে. নিয়াজী ও লে. জে. জগজিৎ সিং অরোরা বসেন। যুদ্ধে আত্মসমর্পণের সকল নিয়ম পাকিস্তানি বাহিনী! অনুসরণের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে আত্মসমর্পণের দলিল স্বাক্ষরিত হয়। আত্মসমর্পণের নিয়মানুযায়ী লে. জেনারেল নিয়াজী তার কোমরের বেল্ট হতে সুদৃশ্য রিভলভার ও লে. জেনারেল ব্যাজ খুলে লে. জেনারেল অরোরাকে দেন। নিয়াজির সাথে পরাজিত পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর প্রায় ৯৩ হাজার সৈন্য আত্মসমর্পণ করে। আত্মসমর্পণের অনুষ্ঠানটি ছিল মাত্র কয়েক মিনিটের। আত্মসমর্পণকারী পাকিস্তানি সেনাদের যুদ্ধবন্দি হিসেবে নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত সেনানিবাসে নিয়ে যাওয়া হয়।তাই বলা যায়, উদ্দীপকের চিত্রটি জেনারেল নিয়াজীর আত্মসমর্পণের ঘটনার মাধ্যমে বাংলাদেশের বিজয় অর্জনের দৃশ্য।
HSC Islamic History 2nd paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic History 2nd paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকের চিত্রটি কোন ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী? ব্যাখ্যা দাও।
Dhaka · 2023
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর