উদ্দীপকে অন্যতম নাগরিক সমস্যা দুর্নীতি সম্পর্কে আলোচিত হয়েছে। এ সমস্যা নিরসনকল্পে আমাদের দেরি না করে এখনি সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।একে নাগালের মধ্যে আনতে চাইলে বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। দুর্নীতি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব। দুর্নীতি দমন কমিশন, দুর্নীতি দমন আইন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে দুর্নীতি দমন ও নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করতে হবে। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও মোকাবিলা করার জন্য কতিপয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ বাঞ্ছনীয়। যেমন- রাজনৈতিক অঙ্গীকার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ, ন্যায়পালের পদ সৃষ্টি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গণসচেতনতা সৃষ্টি করা, নৈতিক ও সামাজিক চেতনা সৃষ্টি, সরকারি নিরীক্ষক কমিটি গঠন, দুর্নীতিবাজদের সামাজিকভাবে বয়কট করা, দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করা প্রভৃতি। তবে দুর্নীতি প্রতিরোধে যেকোনো একটি পদক্ষেপ নয় বরং সকল পদক্ষেপের সমন্বয় প্রয়োজন। কেননা, দুর্নীতির মতো বৃহৎ সমস্যাকে নির্মূল করা অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় হলো যৌথ ও সুচিন্তিত পদক্ষেপ। অন্যথায়, সকল উদ্যোগ ব্যর্থ হয়ে পড়বে।পরিশেষে বলা যায়, নাগরিক সমাজ ও সরকার সম্মিলিতভাবে যদি উপরিউক্ত প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে তবেই সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে উদ্দীপকে উল্লিখিত দুর্নীতি নামক সমস্যা নিরসন করা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি।