উদ্দীপকের ঘটনা-২ এর নাগরিক সমস্যাটি হলো ইভটিজিং। আমি মনে করি, ইভটিজিং প্রতিরোধে প্রধান শিক্ষক এবং পুলিশের ভূমিকা যথার্থ ছিল।ইভটিজিং হলো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি, যা নারীর ব্যক্তিত্ব, নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটি নারীর আত্মবিশ্বাস কেড়ে নেয় এবং সামাজিকভাবে অসুস্থ একটি পরিবেশ সৃষ্টি করে। ফলে নারীর স্বাভাবিক বিকাশ ও অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হয়।উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ দেখা যায়, কনা স্কুলে আসা-যাওয়ার পথেকয়েকজন বখাটের দ্বারা উত্ত্যক্ত হচ্ছিল। প্রধান শিক্ষক প্রথমে বখাটেদের অভিভাবকদের অবহিত করেন এবং পরবর্তীতে পুলিশের সহায়তা গ্রহণ করেন, যার ফলে কনা স্বাচ্ছন্দ্যে স্কুলে যাতায়াত করতে পারে। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক ও পুলিশের ভূমিকা যথার্থ ও সময়োপযোগী ছিল। কারণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব শুধু পাঠদান নয়; শিক্ষার্থীর নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাও কর্তব্য। প্রধান শিক্ষক কনার অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে অভিভাবকদের জড়িত করেন, যা সচেতনতা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পরবর্তী পর্যায়ে পুলিশের সাহায্য নেওয়া ছিল অত্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ, কারণ ইভটিজিং একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ, যা প্রতিরোধে আইনের প্রয়োগ অপরিহার্য। পুলিশের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা কনাকে মানসিকভাবে সাহসী করেছে এবং 'নিরাপত্তাবোধ ফিরিয়ে দিয়েছে। এ ধরনের বাস্তব পদক্ষেপ সামাজিক প্রতিরোধ গড়ার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। এছাড়া ঘটনাটি আমাদেরকে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।আলোচনার শেষে তাই বলা যায়, ইভটিজিং প্রতিরোধে প্রধান শিক্ষক ও পুলিশের তৎপরতা আমাদের শেখায় বিচার, সচেতনতা ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপের সম্মিলনে সমাজকে একটি নিরাপদ ও মানবিক পরিবেশে রূপান্তর করা সম্ভব।