লিমনের কর্মকাণ্ডে দুর্নীতির প্রতিচ্ছবি প্রকাশ পেয়েছে। এই দুর্নীতি প্রতিরোধে উক্ত প্রতিষ্ঠানটি তথা দুর্নীতি দমন কমিশনের ভূমিকা রয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, লিমন স্বল্প বেতনের চাকরিজীবী হয়েও অল্প সময়ে। অঢেল সম্পদের মালিক হয়, যা দুর্নীতিকে নির্দেশ করে। এমন দুর্নীতি প্রতিরোধে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি হলো দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক।দুর্নীতি সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক ভয়াবহ ব্যাধি, যা উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে এবং সামাজিক ন্যায়বিচারকে বিপন্ন করে তোলে। বাংলাদেশে অর্থনৈতিক অগ্রগতি সত্ত্বেও এই ব্যাধির বিস্তার দেশের উন্নয়নপ্রবাহকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তাই দুর্নীতির মূলোৎপাটনে একটি কার্যকর, শক্তিশালী এবং নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ভূমিকা অপরিহার্য। দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদক-এর প্রধান লক্ষ্য হলো স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ। প্রথমে, দুদককে অবশ্যই সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করে সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত পরিচালনা করতে হবে। এরপর, আইনানুযায়ী তার অবৈধ সম্পদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে এবং আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত হলে সে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির -ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া, সরকারি-বেসরকারি সকল পর্যায়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্পদের বার্ষিক বিবরণী যাচাই ও বিশ্লেষণ করা এবং সন্দেহজনক লেনদেন নজরদারিতে রাখা প্রয়োজন। দুদকের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অভিযোগ গ্রহণ ও নিরাপদ তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।সুতরাং, দুর্নীতির মতো সামাজিক ব্যাধি নির্মূলে দুদককে ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও দৃঢ়তার সাথে কাজ করে সমাজে নৈতিকতার ভিত্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।