এ ধরনের তথা প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী এমন একটি শ্রেণি, যারা শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক কিংবা স্নায়ুবিক বিকাশজনিত সীমাবদ্ধতার কারণে দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন। সমাজের এই জনগোষ্ঠীর কল্যাণ ও অধিকার সুরক্ষা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
উদ্দীপকে বর্ণিত হাসেম সাহেবের ছেলেটি অটিজমজনিত স্নায়ুবিক প্রতিবন্ধকতায় ভুগছে, যা আমাদের দেশের অনেক পরিবারের বাস্তবতা। এই জনগোষ্ঠীর সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন নীতিমালা ও কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ২০১৩ সালে "প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন" প্রণয়ন করা হয়, যার মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও চলাফেরার অধিকার নিশ্চিতে আইনি ভিত্তি দেওয়া হয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে জাতীয় প্রতিবন্ধিতা পরিচয়পত্র প্রদান কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। "জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন” ও ৬৪ জেলায় প্রতিষ্ঠিত "জেলা প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র” এর মাধ্যমে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বৃত্তি, এবং উপবৃত্তি চালু রয়েছে। প্রতিবন্ধী বান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ, চলাচলে র্যাম্প ও লিফট স্থাপন এবং হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করাও সরকারের উদ্যোগের অংশ।সুতরাং বলা যায়, এইসব পদক্ষেপ প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে বাস্তব প্রয়োগে আরও জবাবদিহিতা ও সমন্বয় প্রয়োজন। সরকারি উদ্যোগসমূহ প্রতিবন্ধীদের অধিকারের নিশ্চয়তা দিলেও তা বাস্তবায়নে সক্রিয় সামাজিক সহযোগিতা অপরিহার্য।