উক্ত নাগরিক সমস্যা তথা খাদ্যে ভেজাল নামক সমস্যা নিরসনে নানা রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়।ভেজাল খাদ্য মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য একটি ভয়াবহ হুমকি। এটি শুধু জনস্বাস্থ্য নয়, বরং একটি সুস্থ সমাজ ও জাতি গঠনের পথেও বাধা সৃষ্টি করে। এ সমস্যা সমাধানে আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি প্রয়োজন সঠিক সাংবিধানিক পদে দায়িত্বরত ব্যক্তিদের কার্যকর ভূমিকা। এই খাদ্যে ভেজাল রোধে প্রথমেই প্রয়োজন আইনের যথাযথ প্রয়োগ। নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ অনুযায়ী ভেজালকারীদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে, যা বাস্তবে কার্যকর করতে হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, জরিমানা ও ভেজাল পণ্য ধ্বংস কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। জাতীয় খাদ্যনীতি ও হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায় অনুসারে খাদ্যের মান বজায় রাখতে 'বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য প্রতিষ্ঠান' ও 'খাদ্য পরীক্ষাগার' প্রতিটি জেলা ও বাজার পর্যায়ে সক্রিয় করতে হবে। পাশাপাশি, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর যথাযথ বাস্তবায়ন এবং বিএসটিআই-কে অধিকতর সক্রিয় করে খাদ্যদ্রব্যের মান নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা আবশ্যক। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়াতে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে ভেজালকারীদের সামাজিকভাবে বয়কট ও ঘৃণা জানানো প্রয়োজন। ব্যক্তিগতভাবেও সতর্ক থেকে ফলমূল ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া এবং খাদ্য ক্রয়ের সময় মান যাচাই করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।সুতরাং বলা যায়, খাদ্যে ভেজাল রোধে শুধু আইন নয়, দরকার সঠিক প্রয়োগ, জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার সম্মিলিত প্রয়াস।