তমাল এইডস নামক মরণব্যাধিতে আক্রান্ত। এর কোনো প্রতিষেধক নেই, তবে নানা রকম প্রতিরোধ ব্যবস্থা রয়েছে।উদ্দীপকের তমাল বিদেশে যাওয়ার কিছুদিন পর জ্বর, কাশি ও ওজন কমে যাওয়ার মতো বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়, যা থেকে বোঝা যায় সে এইচআইভি/এইডস রোগে আক্রান্ত হয়েছে।এইডস (AIDS) একটি প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ, যার উৎস মানবদেহে এইচআইভি (HIV) ভাইরাস। এটি দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল করে দেয়, ফলে সামান্য সংক্রমণেও রোগী মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়ে। যেহেতু এখনো এ রোগের কার্যকর প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি, তাই প্রতিরোধই একমাত্র উপায়। এ রোগ প্রতিরোধে প্রথমেই প্রয়োজন সচেতনতা বৃদ্ধি। নাগরিক হিসেবে আমাদের উচিত এই রোগের উৎস, সংক্রমণের পদ্ধতি এবং পরিণতি সম্পর্কে জানা। দ্বিতীয়ত, বহুকামিতা, পতিতালয়ে যাতায়াত ও অনিরাপদ যৌন মিলন পরিহার করা অপরিহার্য। তৃতীয়ত, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা এবং বৈবাহিক জীবনে বিশ্বস্ত থাকা সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়ক। চতুর্থত, নিরাপদ রক্ত গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে-পরীক্ষা ছাড়া রক্ত গ্রহণ করা যাবে না। পঞ্চমত, ব্যবহৃত সুঁচ, ব্লেড, সিরিঞ্জ বা যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত না হলে তা ব্যবহার করা উচিত নয়। ষষ্ঠত, আক্রান্ত ব্যক্তিকে ঘৃণা না করে সহমর্মিতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে এবং সামাজিক সচেতনতা তৈরি করতে হবে। সর্বোপরি, 'বিশ্ব এইডস দিবস'-এর মতো উদ্যোগে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করা যেতে পারে।পরিশেষে বলা যায়, এইডস একটি ভয়ংকর রোগ হলেও সচেতনতা, সতর্কতা ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তা প্রতিরোধ করা সম্ভব। সমাজের প্রতিটি নাগরিকেরই এ বিষয়ে দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।