উদ্দীপকে বর্ণিত নাগরিক সমস্যা হলো দুর্নীতি। দুর্নীতির বহুবিধ কারণ রয়েছে।উদ্দীপকে একজন সরকারি কর্মচারী তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করেছেন, যা দুর্নীতির প্রতিচ্ছবি।দুর্নীতি হলো সমাজ অনুমোদিত নৈতিক ও আইনগত আদর্শ লঙ্ঘন করে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থসিদ্ধির জন্য অবৈধ পন্থায় সম্পদ বা সুযোগ-সুবিধা অর্জনের প্রক্রিয়া। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা, যা সমাজের আর্থসামাজিক কাঠামোকে দুর্বল করে এবং সুশাসনকে ব্যাহত করে। দুর্নীতির পিছনে কাজ করে নানাবিধ কারণ, যেমন-দারিদ্র্য, মূল্যবোধের অবক্ষয়, আইনের দুর্বল প্রয়োগ ইত্যাদি। দুর্নীতির পিছনে প্রধানত দ্রুত ধনী হওয়ার উচ্চাভিলাষ ও অর্থকে সামাজিক মর্যাদার মানদণ্ড ভাবার প্রবণতা কাজ করে। স্বজনপ্রীতি ও পার্টিকুলারিস্টিক মূল্যবোধে 'আপনজনকে সুবিধা' দেওয়ার সংস্কৃতি ঘুষ-দুর্নীতিকে স্বাভাবিক করে। আইনের অস্পষ্টতা ও ফাঁকফোকর, তদুপরি আইনের যথাযথ ও সমান প্রয়োগের অভাব দুর্নীতিবাজকে ঝুঁকিমুক্ত বোধ করায়। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ক্ষমতার প্রভাব জবাবদিহিতা দুর্বল করে, ফলে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয়। অন্যদিকে, সীমিত বেতন-ভাতা বা আর্থিক চাপ কিছু ক্ষেত্রে অবৈধ আয়ে প্রলুব্ধ করে। প্রতিযোগিতামূলক ভোগবাদী সংস্কৃতিতে সৎ আয়ে কাঙ্ক্ষিত অবস্থান ধরা কঠিন মনে হওয়ায় তিনি বেআইনি অর্থ সংগ্রহে উৎসাহিত হন। এসব কারণ সম্মিলিতভাবে ঘটনাটি ঘটায়।