উদ্দীপকে বর্ণিত নুসরাত ইভটিজিং-এর শিকার হয়েছে।
ইভটিজিং বর্তমান সময়ে বহুল আলোচিত একটি সমস্যা। বিশেষভাবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি একটি সামাজিক অসুস্থতা হিসেবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। 'ইভ' বলতে বোঝায় রমণী বা নারী, 'টিজিং' বলতে উত্ত্যক্ত করা বা বিরক্ত করাকে বোঝায়। আর ইভটিজিং হচ্ছে পুরুষ সমাজ কর্তৃক নারীর উত্ত্যক্ত বা বিরক্তির শিকার হওয়া। পুরুষ কর্তৃক নারীদের প্রতি বাজে মন্তব্য, কুপ্রস্তাব, অশ্লীল বাক্য প্রয়োগ, অপ্রীতিকর অঙ্গভঙ্গি করা, শারীরিক লাঞ্ছনা, শিস বাজানো, সুযোগে গায়ে পড়ে ধাক্কা দেওয়া, উস্কানিমূলক তালি বাজানো, মোবাইল ফোনে বিরক্ত করা, কাগজে অশ্লীল কথা লিখে মেয়েদের দিকে নিক্ষেপ করা, পথরোধ করা প্রভৃতি ঘটনা যখন ঘটানো হয় তখন তাকে ইভটিজিং বলা হয়। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, স্কুল ছাত্রী নুসরাত প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া-আসার সময় বখাটে যুবকদের দ্বারা হয়রানির শিকার হয়। নুসরাতের হয়রানির বিষয়টি আমাদের বর্তমান সামাজিক সমস্যার অন্যতম ইভটিজিংকে ইঙ্গিত করে। আমাদের দেশে নানারকম সামাজিক সমস্যার মাঝে ইভটিজিং সমস্যা অন্যতম। ইভটিজিং মূলত এক ধরনের প্রকাশ্য যৌন হয়রানি। সাধারণত রাস্তাঘাটে, যানবাহনে বা প্রকাশ্যে চলাফেরারত বা অবস্থানরত নারীদের পুরুষ কর্তৃক উত্ত্যক্ত করা এক ধরনের নারী নির্যাতন। সাম্প্রতিককালে ভয়ঙ্কর এ সমস্যার হিংস্র থাবায় বিক্ষত ও অপমানের দহনে জ্বলতে থাকা অনেক কিশোরী-তরুণী আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে এমনকি গ্রামাঞ্চলের স্কুল-কলেজে মেয়েদের ঝরে পড়ার প্রবণতা ও বাল্যবিবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।