উদ্দীপকে বর্ণিত জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবিলার জন্য বাংলাদেশের একজন নাগরিকের বেশকিছু করণীয় রয়েছে বলে আমি মনে করি।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ যে আর্থ-সামাজিক ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে তা মোকাবিলা করা বা তার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন পন্থা ও কর্মসূচি গ্রহণ এবং বাস্তবায়নে কাজ করা জরুরি। এক্ষেত্রে একজন নাগরিক মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে।
জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব থেকে মুক্তি পেতে হলে নাগরিকদের অবশ্যই শিল্প-কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যাতে করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হয়, সে অনুযায়ী শিল্পকারখানা স্থাপন করতে হবে। বনভূমিকে রক্ষা করতে হবে। যাতে করে নির্বিচারে বন, গাছপালা উজাড় হয়ে না যায় এবং যেখানেই সম্ভব গাছপালা লাগাতে হবে। জলাশয় সংরক্ষণ করতে হবে। নদী-নালা, খাল-বিল ভরাট করে ফেললে চলবে না। জলাশয়গুলো রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। সম্ভব হলে আরও নতুন নতুন জলাশয় সৃষ্টি করতে হবে। জলাশয়ে মৎস্য চাষ করতে হবে এবং তাহলেই কেবল পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হবে। বর্জ্য সংরক্ষণের ব্যাপারে আরও মনোযোগী ও সংবেদনশীল হতে হবে। দায়িত্ব নিয়ে কোনো দেশের প্রত্যেক নাগরিক যদি ময়লা-আবর্জনা, পলিথিন, উচ্ছিষ্ট বর্জ্য ঠিক জায়গায় ফেলে এবং নির্দিষ্ট জায়গায় পুঁতে ফেলে, তাহলে পরিবেশ রক্ষা পাবে এবং জলবায়ু তার চিরচেনা রূপ দ্রুত পরিবর্তন করতে পারবে না।
পরিশেষে বলা যায়, কোনো দেশের নাগরিকরাই পারে তাদের চেষ্টা ও একাগ্রতা দিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে নিজেদেরকে অনেকটা রক্ষা করতে। আর সেজন্যই প্রত্যেক নাগরিককে দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।