আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে উদ্দীপকে বর্ণিত সমস্যা অর্থাৎ খাদ্যে ভেজাল থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আমরা প্রতিনিয়ত যেসব খাবার গ্রহণ করি তার মধ্যে রয়েছে ভেজাল। ফসল তোলা থেকে শুরু করে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে মেশানো হচ্ছে নানা ধরনের রাসায়নিক পদার্থ। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং নাগরিক সচেতনতার প্রয়োজন । ভেজাল খাদ্য কীভাবে সমাজের ক্ষতি করছে এবং এর মারাত্মক পরিণতির বিষয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা দরকার। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা এবং বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে খাদ্যে ভেজাল বিরোধী প্রচারণা এবং কর্মসূচির ব্যবস্থা করতে হবে।
শুধু জনগণ সচেতন হলেই খাদ্যে ভেজাল মেশানো বন্ধ করা সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি খাদ্যদ্রব্য ভেজালমুক্ত কিনা সেজন্য নিয়মিত সরকারি ও বেসরকারিভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। ভেজাল খাদ্য উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। জরিমানা ও কারাদণ্ডের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং কড়াকড়িভাবে তা প্রয়োগ করতে হবে। ভোক্তা পর্যায়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের সবার দায়িত্ব হবে নিজে খাদ্যে ভেজালের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং অপরকে সচেতন করে তোলা।
উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে খাদ্যে ভেজাল সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।