উদ্দীপকের সংস্থাটি তথা ওআইসি সারা বিশ্বের মুসলিমদের স্বার্থ রক্ষার্থে প্রতিষ্ঠিত হলেও এর সফলতা প্রশ্নবিদ্ধ। আমি মনে করি, সংস্থাটি তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। ১৯৬৯ সালে ইসরাইল কর্তৃক জেরুজালেমের মসজিদুল আকসায় অতর্কিত অগ্নিসংযোগের প্রেক্ষিতে সংস্থাটি গঠনের পটভূমি রচিত হয়েছিল। গঠনের পর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে সংহতি বৃদ্ধি ও মুসলিমদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ সংরক্ষণ। প্রথমদিকে সংস্থাটি কিছুটা সক্রিয় থেকে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের প্রচেষ্টা করলেও সময়ের সাথে সাথে এর কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। সামান্য মাত্রার লক্ষ্য অর্জনের বিপরীতে সংস্থাটির ব্যর্থতার পাল্লা অনেকগুণ বেশি। সংস্থাটির নেতৃত্বস্থানীয় অংশের আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে লেজুড়বৃত্তি স্বভাব, অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রভৃতি এর অন্যতম কারণ। সংস্থাটি এখন ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে কোন সুরাহা করতে পারেনি। সাম্প্রতিক। সময়ে মায়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম ইস্যুতেও সংস্থাটির অবস্থান। লজ্জাজনক। কয়েকটি নেতৃত্বস্থানীয় দেশের পাশ্চাত্যমুখী লেজুড়বৃত্তি মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশসমূহের অর্ন্তদ্বন্দ্ব নিরসনে মেরুদণ্ডহীন অবস্থান সংস্থাটির সফলতাকে আড়াল করেছে এবং ছাপিয়ে উঠেছে কেবলই ব্যর্থতা। সংস্থাটির গঠনকালীন আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম দেশসমূহের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা যা কার্যত কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ রয়েছে। স্পষ্টতই সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার প্রায় অর্ধশতক পার হবার পরেও এখনও পর্যন্ত প্রতিষ্ঠাকালীন উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। তাই এর যৎসামান্য সফলতাকে 'মুসলিমদের, স্বার্থরক্ষায় সফলতা' বলা যায় না কোনোভাবেই।