উদ্দীপকে সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতির চিত্র ফুটে উঠেছে।বিশ্বের প্রায় প্রতিটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং সামরিক ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য অপর রাষ্ট্রের সাথে সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক মেনে চলতে হয়। আর এ সম্পর্কের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে তার বৈদেশিক নীতির ওপর। উদ্দীপকে রাষ্ট্রের নেতা রহমান তার ঘোষণায় যে কথাগুলো উল্লেখ করেছেন তা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এগুলো বৈদেশিক নীতির সাথে সম্পর্কযুক্ত। অর্থাৎ তার ঘোষণায় স্বাধীন রাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতির চিত্রই ফুটে ওঠে। আমরা বৈদেশিক নীতির স্বরূপ বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি আরও সুস্পষ্ট হবে। মূলত বৈদেশিক নীতি হলো কোনো দেশের জাতীয় নীতির সেই অংশ, যা বহির্বিশ্বের সাথে সম্পর্কযুক্ত। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন, সর্বোপরি বিশ্বে সম্মানজনক অবস্থান সৃষ্টির জন্য বৈদেশিক নীতি রাষ্ট্রীয় নীতিরই অনুসঙ্গ। বৈদেশিক নীতির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো হলো নিজ রাষ্ট্রের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও সার্বিক উন্নয়নের জন্য অন্য সকল দেশের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক রাখা, অন্যান্য দেশের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন। শান্তিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার স্বার্থে যুগোপযোগী নীতি গ্রহণ। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় সর্বদা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নীতি অনুসরণ করা, ইত্যাদি। বৈদেশিক নীতি স্বরূপ বিশ্লেষণ করলে আমরা একথা বলতে পারি, উদ্দীপকে বর্ণিত স্বাধীন রাষ্ট্রের নেতা রহমানের ঘোষণায় বৈদেশিক নীতির চিত্রই ফুটে উঠেছে।