নিজেদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করাই উক্ত সংস্থা অর্থাৎ সার্ক-এর লক্ষ্য। বক্তব্যটি বিশ্লেষণ করা হলো-
অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার জন্য একটি কার্যকর পদক্ষেপ হলো আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট গঠন করা। তাই পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে গড়ে ওঠে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্ক। সার্ক সনদের ৮টি উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে। দক্ষিণ এশীয় জনগণের কল্যাণ এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, ii. এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, সামাজিক অগ্রগতি সাধন, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন এবং প্রতিটি দেশের স্ব স্ব মর্যাদা সমুন্নত রেখে সহাবস্থানের সকল প্রকার সুযোগ সৃষ্টিতে সহায়তা করা, iii. দেশগুলোর মধ্যে সমষ্টিগতভাবে আত্মনির্ভরশীলতা জোরদার করা, iv. পারস্পরিক বিশ্বাস স্থাপন, সমঝোতা এবং অন্যের সমস্যা উপলব্ধি করা, v. প্রযুক্তিগত ও বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে পরস্পরের মধ্যে সক্রিয় সহযোগিতার প্রসার ঘটানো, vi. অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের সাথে সহযোগিতার প্রসার ঘটানো, vii. সর্বজনীন বিষয়ে নিজেদের মধ্যে এবং আন্তর্জাতিক ফোরামের সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে কাজ করা, viii. আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে একই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা। সার্ক প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই এর লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়, যদিও নানাবিদ কারণে সার্ক তার অভিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে তেমন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করতে পারেনি। সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় ইস্যুর বাধার কারণে সার্কের মাধ্যমে বহুপক্ষীয় যে সাফল্য অর্জনের সম্ভাবনা ছিল তা অর্জন সম্ভব হচ্ছে না।পরিশেষে বলা যায় যে, সার্কের লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিদ্যমান নানা সমস্যা থাকলেও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে এর গুরুত্ব অনস্বীকার্য। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে পরস্পর বিরোধী মনোভাবের সমাপ্তির মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস সুদৃঢ় করার ওপর নির্ভর করছে সার্কের অগ্রগতি তথা লক্ষ্যের সঠিক বাস্তবায়ন।