উদ্দীপকে সাথে তোমার পঠিত কোনো নাগরিক সমস্যার সাদৃশ্য আছে কি? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: উদ্দীপকে জনাব কামরুল ইসলাম বাজার থেকে আম আনার পরে কিছু আম কাটার পরে দেখতে পান আমরা আঁটি শক্ত হয়নি এবং খাওয়ার পরে তার পেটে কিছু সমস্যা দেখা যায় এই সমস্যা আমার পঠিত বইয়ের নাগরিক সমস্যা খাদ্যে ভেজালের সাথে সাদৃশ্য। 'ভেজাল' শব্দটি সাম্প্রতিককালে পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র বহুল উচ্চারিত একটি শব্দ। উৎকৃষ্ট দ্রব্যের সাথে নিকৃষ্ট দ্রব্য মেশানোকেই ভেজাল বলে। সাধারণভাবে আমরা খাদ্যে ভেজাল বলতে বুঝি প্রাকৃতিক ও স্বাভাবিক খাদ্যদ্রব্যে নিম্নমানের, ক্ষতিকর, অকেজো, অপ্রয়োজনীয় এবং বিশুদ্ধ বা খাঁটি নয় এমন কিছু মেশানোকে বোঝায়। গুণগতভাবে নির্ধারিত মানসম্মত নয় এবং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এমন খাদ্যদ্রব্যকে 'ভেজাল খাদ্য' মনে করা হয়। খাদ্যে ভেজাল একটি মারাত্মক সামাজিক অপরাধ। খাদ্যে ভেজাল নিয়ে সমস্ত বিশ্ববাসী আজ উদ্বিগ্ন। খাদ্যে ভেজালের সাথে লোভী ব্যক্তিরা সমাজ ও রাষ্ট্রের শত্রু; তারা জঘন্য অপরাধী এবং মানবতার শত্রু। রোগমুক্ত সুস্থ সুন্দর জীবনের নিশ্চয়তা বিধানের জন্য ভেজাল প্রতিরোধে বিশ্বের সকল মানুষেরই সোচ্চার হতে হবে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বেঁচে থাকার জন্য আমাদেরকে কোনো না কোনো খাদ্য গ্রহণ করতে হয়। বেঁচে থাকার জন্য এবং শারীরিক বিকাশের জন্য খাদ্য অপরিহার্য। কিন্তু ইদানিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিশ্বের কিছু দেশে বিশেষ করে বাংলাদেশে খাদ্যে ভেজালের ভয়াবহ চিত্র প্রকাশিত হচ্ছে। মানুষ নামের কলঙ্ক কিছু অসাধু ব্যক্তি খাদ্যে ভেজালের সাথে যুক্ত। এমন কোনো খাদ্যসামগ্রী নেই যাতে তারা ভেজাল মেশাচ্ছে না। চাল-ডাল-আটা-ময়দা আমাদের প্রধান খাদ্য। ভালো চালের সাথে নিম্নমানের চাল মেশাচ্ছে। চালে পাথর ও বালি মেশাচ্ছে। চুালের রং উজ্জ্বল করার জন্য ইউরিয়া ও অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মেশাচ্ছে বা তা দিয়ে শোধন করছে। বাজারের বেশির ভাগ ডালই ভেজাল ও খাওয়ার অনুপযোগী। ডালেও মেশানো হয় ক্ষতিকর রং এবং মাইটক্সিন নামে বিষাক্ত কেমিক্যাল। আটা-ময়দাতেও মেশানো হচ্ছে ভেজাল, বিশেষ করে কাঠের গুড়ো। পাউরুটি, বিস্কুট এবং নুডুলস তৈরিতে ব্যবহৃত আটা-ময়দায় ভেজালের হার আরও বেশি। বাজারে এখন যেসব মিনারেল ওয়াটার পাওয়া যায় তার ৯৫ ভাগই পানের অযোগ্য। বাজারে যে হরেক রকম ব্রান্ডের ফলের জুস পাওয়া যায় সেগুলোর প্রায় ৯৫ ভাগের মধ্যেই। কোনো ফলের রস নেই বিলে পরীক্ষায় প্রমাণিত এসব জুস, জ্যাম, জেলিতে যে বিষাক্ত রং মেশানো হয় তা কিডনি, লিভার ও পেটের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। হয়েছে। এছাড়া আমরা 'ভাতে-মাছে বাঙালি'। অথচ যেভাবে মাছ টাটকা রাখার জন্য ফরমালিন মেশানো হচ্ছে তা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। শুঁটকি মাছে পোকা যেন না ধরে সেজন্য ব্যবসায়ীরা কীটনাশক ও ডিডিটি ব্যবহার করছে। বাংলাদেশে প্রচুর শাক সবজি ও ফলমূল পাওয়া যায়। একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী এগুলো টাটকা ও সতেজ রাখার জন্য এবং ফলমূলগুলো পাকানোর জন্য ক্যালসিয়াম কার্বাইড ইথোপেনসহ বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার করে থাকে। এগুলো আমাদের কিডনি ও লিভারের ক্ষতি করছে, ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলছে এবং অনেকেই অকালে চোখের দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে ফেলছেন। আমাদের দেশের একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী খাবারের তেল, ঘি, ডালডা, বাটারওয়েল প্রভৃতিতে ভেজাল মেশাচ্ছেন। এগুলো মুখে দিলেই বা এর ঘ্রাণ নিলেই বোঝা যায় এগুলোর প্রায় ৭০/৮০ ভাগই ভেজাল, খাওয়ার অনুপযোগী এবং স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। অনেকে মাছ, দুধ, মিষ্টি, ফল ইত্যাদিতে ফরমালিন মিশিয়ে এগুলোর পচন রোধ করার চেষ্টা চালায়। শুঁটকি মাছে অনেকে ক্ষতিকর কীটনাশক ডিডিটি মেশান। এমনকি অসাধু ব্যবসায়ীরা গুঁড়া মশলার সাথেও ইটের গুঁড়া এবং অনেক ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মেশাচ্ছেন, যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। বাজারে 'আয়োডিনযুক্ত লবণ' বলে যা বিক্রি হচ্ছে তার প্রায় ৯০ ভাগেই আয়োডিন বলে কিছুই নেই। আয়োডিনের অভাবে তাই আমাদের দেশে গলগণ্ড রোগ বেড়ে চলছে। মানসিক প্রতিবন্ধীর সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়াও আমাদের দেশে হোটেল রেস্তোরাঁগুলোর ভিতরের বিশেষ করে যেখানে খাবার তৈরি হয় সেখানকার চিত্র খুবই নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর। এসব হোটেল রেস্তোরাঁয় পচা, বাসি খাবার পরিবেশন করা হয়। খাবারে বিষাক্ত রং, রস ও কেমিক্যাল মেশানো হয়। প্রায়ই সংবাদপত্রে প্রকাশিত হতে দেখা যায় যে, ভ্রাম্যমাণ পরিদর্শক টিম হোটেলগুলোতে মরা মুরগি, পচা মাছ-মাংস ব্যবহার করতে দেখেছেন, শাস্তি দিয়েছেন।
HSC Civics 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Civics 2nd Paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকে সাথে তোমার পঠিত কোনো নাগরিক সমস্যার সাদৃশ্য আছে কি? ব্যাখ্…
উদ্দীপক
রাজশাহী কলেজ · 2024
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর