উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে, বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে যে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য মূলত মানুষের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডই দায়ী। কথাটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও সমর্থনযোগ্য।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যার জন্য প্রকৃতি নয় মূলত মানুষই দায়ী । মানুষের পরিবেশ বিধ্বংসী নানারকম কর্মকাণ্ডের ফলে জলবায়ুর নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটছে। নিয়ন্ত্রণহীন শিল্পায়ন এর একটি বড় কারণ। বনাঞ্চল উজাড় এবং জলাভূমি ভরাট করে যেখানে সেখানে শিল্প কারখানা গড়ে উঠছে। এসব শিল্প কারখানার নিঃসৃত কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করছে। এ কারণে জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটে। বায়ুমণ্ডলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য দায়ী গ্যাসগুলোকে গ্রিন হাউজ গ্যাস বলা হয়। বিশ্বব্যাপী রাসায়নিক পদার্থ, রাসায়নিক সার, কীটনাশক ইত্যাদির ব্যাপক ব্যবহার ও বন ধ্বংসের ফলেও জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটছে।
এছাড়া ওজোন স্তর ক্ষয়, আগ্নেয়গিরির উদগিরণ প্রভৃতি কারণেও জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে বিভিন্ন দেশের উপকূলীয় নিচু অঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জলবায়ুর ক্রমবর্ধমান পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি প্রবেশ করে মূল ভূখণ্ডের ভেতরে এমনকি ভূগর্ভস্থ পানির লবণাক্ততা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ছাড়াও খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে এবং জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দাবানল, নদ-নদীর প্রবাহ পরিবর্তন, এবং সংক্রামক ব্যাধির বিস্তার ঘটছে।
উপরের আলোচিত জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণগুলো পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায়, একমাত্র মানুষের অবিবেচনাপ্রসূত কর্মকাণ্ডের ফলের বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে।