অন্যতম নাগরিক সমস্যা দুর্নীতি সম্পর্কে আলোচিত হয়েছে। এ সমস্যা নিরসনকল্পে আমার সুপারিশ সমূহ তুলে ধরা হলো - দুর্নীতি একটি সামাজিক ব্যাধি। এ সমস্যা অর্থসামাজিক, রাজনৈতিক, প্রশাসনিক প্রতিটি ক্ষেত্রে বিরাজমান। তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশেও বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে পরিচিত। বর্তমানকালে প্রায় সর্বত্র দুর্নীতির অবাধ বিচরণ লক্ষ্য করা যায়। একে নাগালের মধ্যে আনতে চাইলে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। দুর্নীতি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করার রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংবিধানিক দায়িত্ব। দুর্নীতি দমন কমিশন, দুর্নীতি দমন আইন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে দুর্নীতি দমন ও নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করতে হবে।দুর্নীতির নিয়ন্ত্রণ ও মোকাবেলা করার জন্য কতিপয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ বাঞ্ছনীয়। যেমন- রাজনৈতিক অঙ্গীকার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ,গণসচেতনতা সৃষ্টি করা, নৈতিক ও সামাজিক চেতনা সৃষ্টি, সরকারি নিরীক্ষক কমিটি গঠন, দুর্নীতিবাজদের সামাজিকভাবে বয়কট করা, দুর্নীতি দমন কমিশন কে শক্তিশালী করা প্রভৃতি। তবে দুর্নীতি প্রতিরোধ যেকোনো একটি পদক্ষেপ নয় বরং সকল পদক্ষেপের সমন্বয় প্রয়োজন । পরিশেষে বলা যায়, নাগরিক সমাজ ও সরকার সম্মিলিতভাবে যদি উপরীয়ক্ত প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে তবে সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে উদ্দীপকে উল্লিখিত দুর্নীতি সমস্যা নিরসন করা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি।