দৃশ্যকল্প-২ এ রাজনের কার্যক্রমে যুক্তিবিদ্যার স্বরূপের যেসব বিষয় লক্ষ করা যায় নিচে, সেগুলো বিশ্লেষণ করা হলো- যুক্তিবিদ্যা বলতে মূলত বোঝায় বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে সত্য আবিষ্কারের উপায় বের করা। এ বিচার-প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ নির্ণয় করতে গিয়ে দেখা যায়, যুক্তিবিদ্যা একই সাথে বিজ্ঞান এবং কলা উভয়ই। উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ রাজনের কাজের মাধ্যমে ঠিক এ বিষয়গুলো ফুটে উঠেছে। বিজ্ঞান বলতে বোঝায় প্রকৃতির একটি বিশেষ বিভাগ সম্পর্কে সুশৃঙ্খল ও সুনিশ্চিত জ্ঞান। যুক্তিবিদ্যা একটি বিজ্ঞান। কেননা যুক্তিবিদ্যা যথার্থ যুক্তিপদ্ধতির নিয়ম সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান দান করে। এখানে বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোনো বিষয় সম্পর্কে আমাদের তাত্ত্বিক জ্ঞান দান করে। উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প- ২ এ রাজন যুক্তিবিদ্যার বিজ্ঞানবিষয়ক কাজ করেছেন। রাজন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ইলেকট্রনিক্স বিষয়ের ওপর প্রয়োজনীয় গবেষণা এবং তাত্ত্বিক বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এখানে তার কাজের সাথে বিজ্ঞানের মিল পাওয়া যায়। আবার রাজন ইলেকট্রনিক্স বিষয়ের ওপর বিজ্ঞানসম্মত জ্ঞান অর্জন করে পরবর্তীতে সে গ্রামে গিয়ে ইলেকট্রনিক্সসামগ্রী মেরামতের কাজ করেন। এখানে রাজনের কাজের সাথে কলাবিদ্যার মিল পাওয়া যায়। কেননা রাজন তার বিজ্ঞানভিত্তিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইলেকট্রনিক্সসামগ্রী মেরামত করছেন। এখানে যুক্তিবিদ্যাকে কলাবিদ্যাও বলা হয়। কারণ যুক্তিবিদ্যা যুক্তিপদ্ধতির যেসব নিয়মকানুন প্রণয়ন করে, সেগুলোকে আমাদের বাস্তব চিন্তার ক্ষেত্রে প্রয়োগের কৌশল শিক্ষা দেয়। অর্থাৎ বিজ্ঞান হিসেবে যুক্তিবিদ্যা সঠিক যুক্তিপদ্ধতি সম্পর্কে আমাদের যে জ্ঞান দান করে 'কলাবিদ্যা হিসেবে যুক্তিবিদ্যা সে জ্ঞানকে বাস্তবে সুষ্ঠুভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে সত্য আবিষ্কারে সহায়তা করে। সুতরাং যুক্তিবিদ্যাকে বিজ্ঞান এবং কলা উভয়ই বলা যায়। যুক্তিবিদ মিলের মতে, "যুক্তিবিদ্যা যতটা বিজ্ঞানময়, ততটাই কলা বিদ্যাময়।"পরিশেষে বলা যায়, দৃশ্যকল্প-২ এ রাজনের কার্যক্রমে যুক্তিবিদ্যা একই সাথে বিজ্ঞান ও কলা উভয়ই এ বিষয়টি ফুটে উঠেছে। মূলত উত্ত বিষয়টিই হলো যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ।