দৃশ্যকল্প-১ বিজ্ঞান ও দৃশ্যকল্প-২ কলা হিসেবে যুক্তিবিদ্যার পরিপূর্ণ স্বরূপকে নির্দেশ করে।যুক্তিবিদ্যার প্রধানত দুটি দিক রয়েছে। একটি হলো তাত্ত্বিকু বা বিজ্ঞান বিষয়ক দিক এবং অন্যটি হলো ব্যাবহারিক বা কলাবিদ্যা বিষয়ক দিক। প্রকৃতির কোনো বিশেষ বিভাগ সম্পর্কে অর্জিত সুশৃঙ্খল ও সুনির্দিষ্ট জ্ঞানকে বিজ্ঞান বলে। উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ দেখতে পাই, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে কৃষি সম্পর্কিত যুক্তিসজাত সুশৃঙ্খল জ্ঞান সংগ্রহ করেছেন। যেসব নিয়ম অনুসরণ করলে ভালো ফসল উৎপাদন সম্ভব তা জেনেছেন। কৃষি সম্পর্কিত বিভিন্ন যুক্তিসঙ্গত সুশৃঙ্খল পদ্ধতি, নিয়ম-কানুন, তত্ত্ব-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন। এভাবে বিজ্ঞান হিসেবে যুক্তিবিদ্যা যৌক্তিক সত্যতা অর্জনের লক্ষ্যে কিছু সাধারণ নিয়ম আবিষ্কার করে।অপরদিকে, বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আমাদের জ্ঞানকে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার নিয়ম-কানুন বা কলাকৌশলকে কলা বলে। উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ শাইখ সিরাজ তার সংগৃহীত তত্ত্ব-উপাত্ত, কৌশল বাস্তবে কীভাবে প্রয়োগ করা যায় তা গণমাধ্যমে প্রচার করেন। আমাদের দেশের কৃষকেরা ও সাধারণ মানুষ ব্যাবহারিক জীবনে এ কৌশল প্রয়োগ করে সফলতা পায়। তাই বলা যায়, কলা হিসেবে যুক্তিবিদ্যা এসব নিয়মকে আমাদের বাস্তব চিন্তাক্ষেত্রে সুষ্ঠুভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে সত্যতাকে আবিষ্কার করতে সহায়তা করে।আলোচনা শেষে বলা যায়, যুক্তিবিদ্যা একাধারে একটি তাত্ত্বিক ও ব্যাবহারিক বিজ্ঞান। এজন্য যুক্তিবিদ্যায় তত্ত্ব ও প্রয়োগ উভয়ই বিদ্যমান। তাই যুক্তিবিদ্যাকে কেউ বিজ্ঞান ও কেউ কলা বললেও এটি উভয়ের একটি সামগ্রিক রূপ। আর উদ্দীপকে এর পরিপূর্ণ প্রকাশ ঘটেছে।