উদ্দীপকের আলোকে যুক্তিবিদ্যার ক্রমবিকাশের বিভিন্ন যুগ তথা প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ, আধুনিক যুগ ও সাম্প্রতিক যুগের পর্যালোচনা করা হলো-
যুক্তিবিদ্যার বিবর্তন অর্থাৎ উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশকে চারটি যুগে বিভক্ত করা যায়। যথা- প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ, আধুনিক যুগ ও সাম্প্রতিক যুগ।. প্রাচীন যুগে যুক্তিবিদ্যার বিকাশে পিথাগোরাস, সক্রেটিস, এরিস্টটল প্রমুখ যুক্তিবিদগণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। প্রাচীন যুগের যুক্তিবিদ্যা যুক্তিপদ্ধতি নির্ভর হলেও মধ্যযুগীয় যুক্তিবিদ্যা বলতে প্রধানত স্কলাস্টিক যুক্তিতত্ত্বকেই নির্দেশ করে। দার্শনিক পরফিরি মধ্যযুগের যুক্তিবিদ্যার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। মধ্যযুগের প্রভাবশালী মুসলিম দার্শনিক ও যুক্তিবিদগণ হলেন- আল-ফারাবি, ইবনে সিনা, ইবনে রুশদ, আল-কিন্দি প্রমুখ। আধুনিক যুগের প্রধান যুক্তিবিদগণ হলেন- লাইবনিজ, হেগেল, বেইন, জে.এস. মিল প্রমুখ। লাইবনিজ এর সময় থেকেই সাবেকী যুক্তিবিদ্যা আধুনিক রূপ লাভকরে। তার যৌক্তিক কলন পদ্ধতির মাধ্যমে যুক্তিবিদ্যা গাণিতিক আকার পায় এবং সাম্প্রতিক যুগের সূচনা হয়। সাম্প্রতিক যুগের প্রধান যুক্তিবিদগণ হলেন- জর্জ বুল, ভিটগ্যানস্টাইন, জেভন্স, সি.এস. পার্স, রাসেল, আই. এম. কপি প্রমুখ।
উদ্দীপকের ঘটনাটি যুক্তিবিদ্যার ক্রমবিকাশের চারটি যুগ যথাক্রমে আগের যুগে পাঠশালায় পণ্ডিতদের সাহায্যে শিক্ষা দান দ্বারা প্রাচীন যুগ, ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষা দান দ্বারা মধ্যযুগ, স্বাধীন বাংলাদেশ হবার পর সনাতনী শিক্ষানীতি অনুযায়ী প্রশ্নপত্র প্রণয়নের মাধ্যমে শিক্ষা দান দ্বারা আধুনিক যুগ এবং বর্তমান সময়ে সৃজনশীল পদ্ধতির, শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই করা দ্বারা সাম্প্রতিক যুগকে নির্দেশ করে।
আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনাটিতে চারটি স্তরে যুক্তিবিদ্যার পরিবর্তন ও বিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে; যা দীর্ঘ আড়াই হাজার বছরে পর্যায়ক্রমে বর্তমান রূপ লাভ করেছে।